Mojar-School-Winter-Festival-2016-Dhanmondi-(29)

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০২০, সিজন -০৬

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে শীতকালের স্থায়িত্ব হল মূলত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। প্রতি বছর এই সময়ে তীব্র শীতের প্রকোপে জবুথবু হয়ে থাকে সবাই। শীত থেকে রক্ষার জন্য হরেক রকমের শীতের পোশাক গায়ে চাপায় সামর্থ্যবানরা। কিন্তু, একাধিক শীতের পোশাকও যেন এই হাড় কাঁপানো শীত থেকে রক্ষা করতে হিমশিম খায়। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচা এই দৃশ্য যে সমাজের সব জায়গায় যে এক তা কিন্তু নয়। আমাদের আশেপাশে থাকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শীতকাল যেন কঠিন যুদ্ধ।রাস্তায় বেড়ে উঠা পথশিশুদের এই তীব্র শীতেও থাকে না গায়ে জড়ানোর মত একটি পোশাক। তীব্র শীত থেকে রক্ষার জন্য কখনো রাস্তার ময়লায় আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহায়। কখনো বা শীতের কষ্ট ভুলতে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শীতের পোশাকের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে পেরে ২০১৩ সাল থেকে মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব এর আয়োজন করে আসছে মজার ইশকুল।

বিগত ০৮ বছর ধরে পথশিশুদের কাছে শীতের পোশাকরূপে উষ্ণতা পৌঁছে দেওয়ার কাজটি সুনিপূণভবে করে আসছে মজার ইশকুল।

২০১৩ সালের এর ১ম সিজনে শিশুদের হাতে কম্বল তুলে দিলেও পরবর্তী সিজনগুলোতে শিশুদের প্রয়োজনীয় জ্যাকেট প্রদান করি আমরা। তীব্র শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কম্বল এর তুলনায় জ্যাকেটকেই অধিকতর শ্রেয় বলে মনে হয়।

তাছাড়া, জ্যাকেট গায়ে সারাদিন থাকা যায় বিধায় তা চুরি বা হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা কমে যায় অনেকখানি।

তাই, প্রতি শীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে টুকটুকে লাল শীতের জ্যাকেট তুলে দেওয়াই থাকে আমাদের লক্ষ্য।

মজার ইশকুল এর ০৮ টি ইশকুল, ০৪ টি স্থায়ী ইশকুল ও ০৪ টি খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ইশকুলের নিয়মিত শিশুদের নিয়ে মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব এর আয়োজন হয়। এর সাথে যুক্ত থাকে রাজধানী ঢাকার একাধিক অস্থায়ী পয়েন্ট যেখানে পথশিশুদের সংখ্যা বেশি এবং মজার ইশকুল তার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম শুরু করতে ইচ্ছুক।

২০১৯ সালে প্রথমবারের মত বিভাগীয় পয়েন্টেও মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব আয়োজিত হয়।

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব এর প্রস্তুতি

প্রতিটি শীত উৎসব আয়োজন করার পূর্বে কমপক্ষে দুই মাসের প্রস্তুতি গ্রহণ করে মজার ইশকুল এর স্বেচ্ছাসেবী টিম।

শুরু হয় প্রতিটি শিশুর জ্যাকেটের মাপ নেওয়া। অতঃপর বাজার ঘুরে ভালোমানের কাপড় বাছাই করা, জ্যাকেট তৈরীর কারখানায় স্বশরীরে উপস্থিত থাকা এবং প্রতিটি শিশুর মাপ অনুযায়ী জ্যাকেট ভাগ করা।

সবশেষে, শিশুদের হাতে তাদের নিজের মাপের লাল টুকটুকে শীতের জ্যাকেটটি পৌঁছে দেওয়ার সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয় স্বেচ্ছাসেবীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে।

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব এ ডোনেশন-পদ্ধতি

২০২০ সালে, মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০২০, সিজন ০৬ এর মাধ্যমে,

মোট ৫০০০ সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুকে প্রদান করা হবে উন্নতমানের লাল টুকটুকে শীতের জ্যাকেট।

৫০০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে উষ্ণতা পৌঁছে দেওয়ার এই যাত্রার সঙ্গী হতে ডোনেট করুন আজই।

 

মাত্র ৬০০ টাকা নিশ্চিত করবে ০১ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু উষ্ণতা।

১ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য ৬০০ টাকা
৫ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য ৩,০০০ টাকা
১০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য ৬,০০০ টাকা
৫০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য ৩০,০০০ টাকা
১০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য ৬০,০০০ টাকা

৫০০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব এর মাধ্যমে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে এই লিংকের মাধ্যমে ডোনেট করতে পারেন আপনিও।

https://odommobangladesh.org.bd/donation/campaign/6/mojar-school-winter-festival-2020

বিকাশ অ্যাপ এর মাধ্যমে ডোনেট করুন,
https://bit.ly/bKash_MojarSchool

 

বিগত বছরগুলো ফিরে দেখা-

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৯, সিজন -০৫

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৯, সিজন ০৫ এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ ০৫ টি বিভাগের মোট ৩,৬০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে লাল টুকটুকে শীতের জ্যাকেট পৌঁছে দিয়েছিল মজার ইশকুল টিম।

এ বছর পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৩.৬ গুণ বেশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে উষ্ণতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছি আমরা।

এই বিশাল সংখ্যক শিশু সংযুক্ত করা এবং উৎসব সফলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উৎসবের ০৩ মাস আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিলো।

উৎসবের পূর্বে মোট ১৪টি প্রস্তুতি মিটিং করেছে টিম, যেখানে উৎসব প্রস্তুতির নিয়মিত আপডেটগুলো পর্যালোচনা করা হয়।

এছাড়া, শিশুদের জ্যাকেটের মাপ নেওয়া, শিশুদের উৎসবের টোকেন প্রদান, উৎসব এর নিয়মিত আপডেট জানানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবী টিম নিয়মিতই পয়েন্টগুলোতে উপস্থিত ছিল। জ্যাকেট এর কাপড় নির্ধারণ, জ্যাকেট তৈরির প্রক্রিয়া মনিটরিং এবং নির্ধারিত মাপ অনুযায়ী জ্যাকেট ভাগসহ সকল কাজ স্বেচ্ছাসেবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবের দিনের এক সপ্তাহ পূর্বেই সম্পন্ন হয়।

শক্তিশালী এ প্রস্তুতিই উৎসবটিকে সফল করতে ভূমিকা রাখে।

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৯, সিজন ০৫ এর দিন সকাল থেকেই স্বেচ্ছাসেবীরা নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে উপস্থিত হয়। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাদের নির্ধারিত মাপের লাল জ্যাকেট।

প্রিয় মজার ইশকুল এর নাম লেখা লাল টুকটুকে জ্যাকেটগুলো শিশুরা দেখছিলো অবাক বিস্ময়ে।

যেহেতু উৎসবের পূর্বে শিশুদের মাপ গ্রহণ করেই জ্যাকেটগুলো প্রস্তুত করা হয়েছিলো, তাই শিশুরা তাদের সঠিক মাপ অনুযায়ীই জ্যাকেটগুলো পায়। উন্নতমানের কাপড়ে তৈরি এ জ্যাকেটগুলো শিশুদের উষ্ণতা দিতে পারবে অনেকদিন, সহজে ছিঁড়বে না এবং আগুনে না পুড়ালে সহজে নষ্টও হবে না৷ বিগত শীত উৎসবের জ্যাকেটই যে কারণে এখনো অনেক শিশুর গায়ে দেখা যায়।

লাল জ্যাকেটগুলো হাতে পেয়ে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিলো অন্যরকম।

সবমিলিয়ে শিশুদের সাথে অতুলনীয় কিছু মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ হয় মজার ইশকুল এর।

 

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৬ । সিজন – ০৪

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৬ , সিজন – ০৪ ছিল, বিগত ৩ সিজনের অভিজ্ঞতার ফল ।

২০১৬ সালে, মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৬ , সিজন – ০৪ এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার মোট ১০০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য উন্নতমানের শীতের জ্যাকেটের ব্যবস্থা করে মজার ইশকুল পরিবার।

রাজধানী ঢাকায় ৩ টি খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ইশকুল ( শাহবাগ, কমলাপুর ও সদরঘাট ) এবং ১ টি স্থায়ী ইশকুল ( আগারগাঁও ) সহ আরো ৬ টি ভিন্ন ভিন্ন স্থান যেখানে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের আধিক্য বেশী যেমন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, উত্তরা হাউজবিল্ডিং ( নর্থ টাওয়ার ), উত্তরা – ১৫ নাম্বার সেক্টর, মালিবাগ রেলগেট, খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া, বেইলি রোডের শিশুদের হাতে পৌঁছে দেয়া হয় শীতের উষ্ণতার প্রতীক লাল সবুজ জ্যাকেট ।

বিগত সিজনগুলোর তুলনায় মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৬ , সিজন – ০৪ ছিল সব দিক দিয়ে গুছানো।

উৎসব মুখর পরিবেশ এবং স্বেচ্ছাসেবীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ছিল অনাবদ্ধ । টিম হিসেবে কাজ করে চ্যালেঞ্জ জয় করা যায়, তার অতীব সুন্দর নিদর্শন হয়ে রইলো এই উৎসব।

এক কথায়, ১০ পয়েন্টে ১০০০ শিশুর কাছে উষ্ণতা পৌঁছে দেওয়ার এই যাত্রায় স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ উৎসবটিকে করেছে আনন্দমুখর।

উৎসবের শুরুতে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন।  অতঃপর শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় লাল টুকটুকে জ্যাকেট। লাল জ্যাকেট পেয়ে সকল শিশুর মুখে ছিল দিগ্বিজয়ী হাসি।

সবাই জ্যাকেট গায়ে চাপানোর পর শিশু ও স্বেচ্ছাসেবীরা মিলে একসাথে গান ধরে, আমরা করবো জয়! আমরা করবো জয়! আমরা করবো জয় একদিন!”

এই সময়ে সবাই হাত নাড়িয়ে একই সাথে গাওয়ার ফলে ভিন্ন এক আবহ তৈরি হয় উৎসব স্থলে।

সবশেষে, সবার জন্য ছিল চকলেট ও চকলেট যাদু। টানা ১৫/২০ চকলেট যাদু দেখিয়েছে মজার ইশকুল এর নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবীরা। যাদু দেখে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল অতুলনীয়। এই যাদু দেখার ফাঁকে ক্যামেরা বন্দি করা হয়েছে উৎসবের কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত।

যাদু শেষে সবাই চকলেট নিয়ে ভাইয়া আপুদের সাথে ছবি তুলেছে আনন্দের সাথে।

 

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৫ , সিজন – ০৩

২০১৫ সাল ছিল মজার ইশকুলঃ শীত উৎসবকে নতুনভাবে সাজানোর বছর।

২০১৩ ও ২০১৪ সালে অন্যান্য সংগঠনের সহায়তায় শিশুদের শীতের পোশাক প্রদান করা হলেও ,এবছর এই ধারা ভাংগতে উদ্যোগ নেয় মজার ইশকুল।

তাই মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৫ এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শীতের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিগত দুইবছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিশুদের জন্য সুন্দর ও টেকসই লাল-সবুজ জ্যাকেট তৈরিই ছিল এই সিজনের মূল লক্ষ্য।

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৫ এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার ৪০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে শীতের জ্যাকেট পৌঁছে দিয়েছে মজার ইশকুল।

মজার ইশকুল এর ০৪ টি ইশকুল,( আগারগাঁও, শাহবাগ, কমলাপুর ও সদরঘাট) এর নিয়মিত শিশুদের জ্যাকেট প্রদান করা হয়।

এর পাশাপাশি ০৩ টি অস্থায়ী পয়েন্ট (মালিবাগ, উত্তরা ও ধানমন্ডি) এর শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শীতের পোশাক।

সবমিলিয়ে মোট ০৭ টি পয়েন্টের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে লাল-সবুজ জ্যাকেট তুলে দিতে সক্ষম হয় মজার ইশকুল।

সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রথম শীত উৎসব হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্ব ছিল অনেক বেশি।

জ্যাকেটের জন্য ভালোমানের কাপড় নির্ধারণ ও জ্যাকেট তৈরির কারখানার খোঁজে গুলিস্তান, বঙ্গবাজার ইসলামপুর এলাকা চষে বেড়ায় একদল স্বেচ্ছাসেবী।

পাশাপাশি, আরেকদল শিশুদের মাপমত জ্যাকেট নিশ্চিত করতে পয়েন্টগুলো ঘুরে ঘুরে জ্যাকেটের মাপ নিতে থাকে। এই স্বেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে উন্নতমানের শীতের পোশাক পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জটা জয় করে মজার ইশকুল।

সব প্রস্তুতি শেষে, ধাপে ধাপে রাজধানী ঢাকার ০৭ টি পয়েন্টের ৪০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছে যায় মজার ইশকুল টিম।

ঠিক নিজেদের মাপমতন শীতের জ্যাকেট পাওয়ায় শিশুদের মাঝে ছিল এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস।

অন্যদিকে, ৪০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে লাল সবুজ জ্যাকেট তুলে দেওয়ার এই যুদ্ধে সফল হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবীদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি।

 

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৪ , সিজন – ০২

 

মজার ইশকুলঃ শীত উৎসব ২০১৩ , সিজন – ০১