Employment Project #27 “পাঁচ মাস ধইরা পোলাপানেরা বাপেরে দেহে না”

“পাঁচ মাস ধইরা পোলাপানেরা বাপেরে দেহে না”

মনপুরা থেকে নোয়াখালী, ট্রলারে ঘন্টা পাঁচেকের যাত্রাপথ। জীবিকার তাগিদে এই দূরত্ব প্রতিদিন অতিক্রম করতে হয় হোসেন মিয়ার (ছদ্মনাম)। করোনার কারণে নিজ গ্রামে দিনমজুরীর কাজ জুটাতে না পেরে নোয়াখালী শহরে কাজের আশায় যাত্রা। ভাগ্যক্রমে যেদিন কপালে কাজ জুটে সেদিন পুরো পরিবারের দুমুঠো খাবারের জোগাড় হয়। পরিবারের এই সংগ্রাম দেখে হোসেন মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগমের (ছদ্মনাম) মনে আক্ষেপ জাগে,যদি সে কিছু একটা করার সুযোগ পেত। কিন্তু গ্রামে আর সে সুযোগটা হয়ে উঠে না তার।

এরই মধ্যে একদিন ডাক পড়ে তাদের সন্তানদের মজার ইশকুল থেকে। হোসেন মিয়া আর আমেনা বেগমের ০৩ সন্তানই মজার ইশকুলঃ মনপুরা-০১ এর নিয়মিত শিক্ষার্থী। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি কমাতে সংগত কারণেই ইশকুল বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু তাদের শিক্ষকরা নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে ঠিকই।

ইশকুলে যেয়ে আমেনা বেগম জানতে পারেন মজার ইশকুলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জন্য পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ যেন নতুন এক আশার আলো দেখায় আমেনা বেগমকে। গ্রামে বড় হওয়ায় গবাদি পশু পালনের অভিজ্ঞতা তার শৈশব থেকে। তাই তিনি গবাদি পশু পালনে তার আগ্রহের ব্যাপারে ইশকুল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। গবাদিপশু পেয়ে আমেনা বেগম বলেন,

“আমার বাপের বাড়িত গরু ছাগল সবই আছিল। আমার পোলাপাইনের বাপের আয় রোজগার ভালো আছিল দেইখ্যা বিয়ের পরের তোন আর পশু পালি না। কিন্তু এই করোনা অ্যাইয়া সব উল্টা পাল্টা কইরা দিছে। পাঁচ মাস ধইরা পোলাপানেরা বাপেরে দেহে না ভালোমত। সেই সকালে বাইর হয় হে, রাইত কইরা বাড়ির ফিরে। হের পরেও পোলা মাইয়্যারে তিনবেলা খাওন দিতে পারি না। এমন অভাবের দিন কহনো দেহি নাই।

এখন পোলাপাইনদের উছিলায় দুইডা ভেড়া পাইলাম। এক বছর পর্যন্ত সব দেখভালে স্যারেরা সাহায্য করব। এই দুইটা পাইলে আমি নিজে একটা আয়ের ব্যবস্থা করমু। সামনের দিনে যাতে পোলা মাইয়্যার লইজ্ঞা একটা সুন্দর জীবন দিতে পারি।”

Odommo Bangladesh Better Stories Employment Project #27 #Two_Sheep #Manpura, Bhola, Bangladesh

 

আমেনা বেগমকে ০২ টি ভেড়া হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ (সোমবার) থেকে মজার ইশকুলঃ মনপুরার শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার (যা আগে RIKSA project নামে পরিচিত ছিল এবং ২০২১ সাল থেকে Odommo Bangladesh Better Stories নামকরণ করা হবে) উদ্যোগ শুরু করেছে মজার ইশকুল। মনপুরার দুর্গম চরে বসবাসকারী পরিবারগুলোও করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দার ভুক্তভোগী। কাজের অভাব থাকায় অনেক পরিবারই দুমুঠো খাবার জোগাড় করতে পারছে না। আবার, গ্রামীণ সমাজে নিজেদের আত্মসম্মানটাই তাদের কাছে মূল্যবান। তাই কারো কাছে হাত পাতাটাকেও শ্রেয় মনে করেন না তারা। এই অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করাটাই অনেক পরিবারের রোজকার জীবন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই কঠিন দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠা ও স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া রোধের লক্ষ্যে অভিভাবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি আমরা। আগে থেকেই কোন কাজে অভিজ্ঞ অভিভাবককে কাজের সুযোগ করে দেওয়া এবং একই সাথে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আমাদের এই উদ্যোগের এর মূল লক্ষ্য। ইতিঃপূর্বে,ঢাকার ২৫ টি পরিবারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি আমরা।

মনপুরাতে আমাদের এই কার্যক্রম শুরু করার আগে আমরা দায়িত্বরত ইউএনও,স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পরামর্শ ও অভিভাবকদের মতামতের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত গাইডলাইন তৈরীর কাজ সম্পন্ন করেছি। এরপর অভিভাবকদের আগ্রহ ও কাজের অভিজ্ঞতা নির্ধারিত সময় ধরে যাচাই-বাছাই করেছে আমাদের একটি টিম। সবশেষে, নির্ধারিত গাইডলাইন মেনে দুইটি পরিবারের হাতে গবাদি পশু হস্তান্তর করেছি আমরা।

আমরা মজার ইশকুলের পক্ষ থেকে সবমিলিয়ে ২৭ টি পরিবাররের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেও আরো অসংখ্য পরিবার এখনো পথ চেয়ে বসে আছে। ২০২০ সালের মধ্যে ১০০০ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে চাই আমরা। একটি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পারেন আপনিও।

একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ডোনেট করুন নিচের লিংকে যেয়ে।

 

“My children have not seen their father for almost 05 months.”

The journey from Monpura to Noakhali takes five hours by a trawler boat. Hossain Mia (Pseudonym) had to cross this distance every day to ensure his family’s livelihood. Being unable to find any job as a day-laborer in his village due to Corona, every day Hossain Mia left for Noakhali in the hope of getting a job. If he got any job, his family would get food. Seeing this struggle of the family, Amena Begum (Pseudonym), the wife of Hossain Mia, regretted if she could get a chance to do something. But in the village, she did not get the opportunity.

One day a call came from their children’s Mojar School. The 03 children of Hossain Mia and Amena Begum are regular students of Mojar School: Monpura-01. Schools have been closed for a valid reason to reduce the risk of Coronavirus. But their teachers are maintaining regular communication with them.

Odommo Bangladesh Better Stories Employment Project #27 #Sheep_1 #Manpura, Bhola, Bangladesh

Odommo Bangladesh Better Stories Employment Project #27 #Sheep_2 #Manpura, Bhola, Bangladesh

Going to the school, Amena Begum came to know that Mojar School is going to start a livelihood project for the guardians of their students. This initiative showed a new light of hope to Amena Begum. Growing up in a village, she had experience in raising cattle since her childhood. So she informed the school authorities about her interest in raising cattle. After getting sheep, she said,

“In my father’s house, we had both the cows and goats. As my husband’s income was good, I don’t keep animals anymore after marriage. But this Coronavirus has turned everything upside down. The children have not seen their father for almost 05 months as he leaves home early in the morning and comes back late. Even after this, we can’t provide three meals a day to them. I have never seen such a day of scarcit

Now I got 02 sheep because of my three children. It was told that Mojar School authority will help in all the care of these sheep to 01 years. If I get these two, I can arrange an income myself. Hope that we can ensure a beautiful life for boys and girls in the days ahead.”

By handing over 2 sheep to Amena Begum on 14 September 2020 (Monday), Mojar School has started an initiative to provide a livelihood (Formerly known as the RIKSA project and will be renamed Odommo Bangladesh Better Stories from 2021) to the parents of students of Mojar School: Monpura. The families living in the remote chars of Monpura are also suffering from the economic downturn due to the Coronavirus. Due to the lack of work, many families are not able to eat properly. Growing up in a village, self-respect is more valuable to them. So, they do not consider begging from anyone. In this situation, starving with children has become the daily routine of many families.

In these difficult times, Mojar School takes initiative to provide a livelihood to the parents in order to provide the students with an environment to grow up properly and prevent the student dropout from school. Our main goal is to provide a livelihood to the parents who are already experienced in any job and at the same time maintain the continuity of the students’ studies. Earlier, we, the Mojar School family had arranged a livelihood for 25 families in Dhaka.

Before starting this activity in Monpura, we have completed the work of making guidelines based on the advice of the UNO in charge, local people’s representative, and the opinion of guardians. After that, the interest and work experience of the guardians are checked was by a team of ours. After final selection, we handed over cattle to the two families.

Although a total of 27 families have been provided a livelihood, many more families are still waiting. We want to provide a livelihood to 1000 underprivileged families by 2020. You too can be a reason for a smile on the face of an underprivileged family.

Donate to support a family at the link below,

https://bit.ly/ob-better-stories

Learn more,

https://odommobangladesh.org.bd/riksa/