Employment Project #26 “সামনের বর্ষার আগেই মাইয়্যাগোরে নিয়া নতুন ঘরে উঠমুই উঠমু।”

খাদিজা বেগম (ছদ্মনাম) এর বেড়ে উঠা মনপুরার এক দুর্গম চরে। নিজে লেখাপড়ার সুযোগ না পেলেও দুই মেয়েকে শিক্ষিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এই মা। কিন্তু জীবন যেন এই স্বপ্নে পদে পদে বাঁধা সৃষ্টি করেই চলেছে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা স্বামীর আয় রোজগার প্রায় শূণ্যের কোঠায়। জমানো টাকা যা ছিল তাও শেষ হয়েছে অনেক আগে। ধারদেনা করে কোনভাবে দিন পার করা হচ্ছে।

এই কঠিন সময়ে খাদিজা বেগমের দুই মেয়েকে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেওয়ার স্বপ্নটা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছিল। পেটে ক্ষুধা নিয়ে কতদিনই বা শিক্ষার বিলাসিতা করা চলে। দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে বের হয়ে মেয়েদের জন্য একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার তাগিদে এই মা একটি জীবিকার চেষ্টা করে চলেছে বিগত কয়েক মাস ধরেই। কিন্তু গ্রামের পরিবেশে মায়েদের একটি জীবিকা খুঁজে পাওয়া তো আর এত সহজ নয়।

এই কঠিন সময়ে এই মায়ের কাছে একটি সুযোগ হয়ে আসে মজার ইশকুল এর শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার উদ্যোগ। দুই মেয়ের সুবাদে মজার ইশকুলের কাছ থেকে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় খাদিজা বেগম। নিজের বাড়িতে থাকতে গবাদি পশু পালনের অভিজ্ঞতা থাকায় দুটি ছাগল পালনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তারই প্রেক্ষিতে মজার ইশকুল কর্তৃপক্ষ ০২ টি ছাগল খাদিজা বেগমের হাতে হস্তান্তর করে। ছাগল দুটি পেয়ে খাদিজা বেগম বলেন,

“আমার নিজের এমন দুইডা ছাগল আছিল স্যার। কিন্তু অভাবে পইরা বেইচ্যা দিতে হইল। ওই টাকা দিয়াই সংসার চলছে এতদিন। ম্যাইয়াগুলার বাপের মাছের ব্যবসার তোন টাকা আসে না পাঁচ মাস ধইরা। ধার-কর্জও কম হয় নাই আমাগো। গেল বর্ষাকালে, হারাটা মাস বাড়ির চালের তোন পানি পড়ছে। ম্যাইয়া দুইডা হারা বর্ষাকাল ভিজলো, কিন্তু চালটা যে ঠিক করামু হেই টাকাও নাই।

এহন এই যে দুইডা ছাগল পাইলাম, এরা নতুন কইরা আশা দেখাইলো। এনের তোন আস্তে আস্তে ছাগলের সংখ্যা বাড়ামু ইচ্ছা আছে। স্যারেরা কইছে ছাগলের খাবার, ডাক্তারের কাছে নেওনের সব ব্যবস্থা কইরা দিবো। আমার আগে পালা কত ছাগলরে যে অসুখ থেকে বাচাইতে পারি নাই। এই চিন্তাটা কমছে আমার। এইবার আশা করি,আমাগো দিন আইবো। সামনের বর্ষার আগেই মাইয়্যাগোরে নিয়া নতুন ঘরে উঠমুই উঠমু।”

Odommo Bangladesh Better Stories Employment Project #26 #Two_Goat #Manpura, Bhola, Bangladesh

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ (সোমবার) থেকে মজার ইশকুলঃ মনপুরার শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার (যা আগে RIKSA project নামে পরিচিত ছিল এবং ২০২১ সাল থেকে Odommo Bangladesh Better Stories নামকরণ করা হবে) উদ্যোগ শুরু করেছে মজার ইশকুল। মনপুরার দুর্গম চরে বসবাসকারী পরিবারগুলোও করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দার ভুক্তভোগী। কাজের অভাব থাকায় অনেক পরিবারই দুমুঠো খাবার জোগাড় করতে পারছে না। আবার, গ্রামীণ সমাজে নিজেদের আত্মসম্মানটাই তাদের কাছে মূল্যবান। তাই কারো কাছে হাত পাতাটাকেও শ্রেয় মনে করেন না তারা। এই অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করাটাই অনেক পরিবারের রোজকার জীবন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই কঠিন দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠা ও স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া রোধের লক্ষ্যে অভিভাবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি আমরা। আগে থেকেই কোন কাজে অভিজ্ঞ অভিভাবককে কাজের সুযোগ করে দেওয়া এবং একই সাথে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আমাদের এই উদ্যোগের এর মূল লক্ষ্য। ইতিঃপূর্বে,ঢাকার ২৫ টি পরিবারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি আমরা।

মনপুরাতে আমাদের এই কার্যক্রম শুরু করার আগে আমরা দায়িত্বরত ইউএনও,স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পরামর্শ ও অভিভাবকদের মতামতের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত গাইডলাইন তৈরীর কাজ সম্পন্ন করেছি। এরপর অভিভাবকদের আগ্রহ ও কাজের অভিজ্ঞতা নির্ধারিত সময় ধরে যাচাই-বাছাই করেছে আমাদের একটি টিম। সবশেষে, নির্ধারিত গাইডলাইন মেনে দুইটি পরিবারের হাতে গবাদি পশু হস্তান্তর করেছি আমরা।

আমরা মজার ইশকুলের পক্ষ থেকে সবমিলিয়ে ২৭ টি পরিবাররের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেও আরো অসংখ্য পরিবার এখনো পথ চেয়ে বসে আছে। ২০২০ সালের মধ্যে ১০০০ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে চাই আমরা। একটি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে পারেন আপনিও।

একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ডোনেট করুন নিচের লিংকে যেয়ে।

 

 

“I will get a new house for the girls before the coming monsoon.”

Khadija Begum (Pseudonym) grew up in a remote char in Monpura. As she did not get the opportunity to study on her own, this mother is determined to educate her two daughters. But life seemed to create obstacles on every step of this dream. Due to the Coronavirus pandemic, the husband’s income from fishing was almost nil. The money that was saved was also gone long ago. Somehow, the days were being spent by borrowing.

During this difficult time, Khadija Begum’s dream of giving her two daughters a bright future was slowly fading. How long can education be a luxury with hunger in the stomach!!! For the past few months, the mother has been trying for a livelihood for getting out of poverty and ensuring a better life for her daughters. But finding livelihood for a mother in a rural environment is not so easy.

In this difficult time, Mojar School has given this mother an opportunity due to its livelihood project for the parents of its students. Because of her two daughters, Khadija Begum got a livelihood from Mojar School. She was interested in raising two goats as she had experience in raising cattle at her father’s house.  So, Mojar School authorities handed over 2 goats to Khadija Begum. After receiving goats, she said,

“I also had two goats, sir. Because of poverty, I had to sell them. My family is maintained all these months with that money. My husband has no income from his fish business for 05 months. We already have so many loans.

In this rainy season, water fell from the roof of the house for the whole month. My two girls got wet all the rainy season. But we didn’t have the money to fix the roof.

Now that I have got these two goats, they have shown me new hope. I want to gradually increase the number of goats. Mojar School authorities said they would make all the arrangements from the goat’s food to take them to the vet. I could not save many of my goats from disease before. Now I don’t have this tension.

This time, hopefully, our good day will return. I will get a new house for the girls before the coming monsoon.”

Odommo Bangladesh Better Stories Employment Project #26 #Goat_1 #Manpura, Bhola, Bangladesh

Odommo Bangladesh Better Stories Employment Project #26 #Goat_2 #Manpura, Bhola, Bangladesh

On 14 September 2020 (Monday), Mojar School has started an initiative to provide a livelihood (Formerly known as the RIKSA project and will be renamed  Odommo Bangladesh Better Stories from 2021) to the parents of students of Mojar School: Monpura. The families living in the remote chars of Monpura are also suffering from the economic downturn due to the Coronavirus. Due to the lack of work, many families are not able to eat properly. Growing up in a village, self-respect is more valuable to them. So, they do not consider begging from anyone. In this situation, starving with children has become the daily routine of many families.

In these difficult times, Mojar School takes initiative to provide a livelihood to the parents in order to provide the students with an environment to grow up properly and prevent the student dropout from school. Our main goal is to provide a livelihood to the parents who are already experienced in any job and at the same time maintain the continuity of the students’ studies. Earlier, we, the Mojar School family had arranged a livelihood for 25 families in Dhaka.

Before starting this activity in Monpura, we have completed the work of making guidelines based on the advice of the UNO in charge, local people’s representative, and the opinion of guardians. After that, the interest and work experience of the guardians are checked was by a team of ours. After final selection, we handed over cattle to the two families.

Although a total of 27 families have been provided a livelihood, many more families are still waiting. We want to provide a livelihood to 1000 underprivileged families by 2020. You too can be a reason for a smile on the face of an underprivileged family.

Donate to support a family at the link below,

https://odommobangladesh.org.bd/donation/campaign/7/ob-better-stories-employment-project

Learn more,

https://odommobangladesh.org.bd/riksa/