করোনাকালিন সময়ে, “মজার ইশকুল :: Mojar School” ২০২০

প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযোদ্ধা,

আমরা সকলেই অবগত আছি যে,২০২০ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। বিগত এক শতাব্দীতে এই ধরনের কোন সংকটের মুখে বিশ্বকে পড়তে হয় নি। তা হল নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)। সম্পূর্ণ নতুন এক ধরনের এই ভাইরাসের সংক্রমণ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে শুরু হলেও,বর্তমান বিশ্বের উন্নত যোগাযোগ-ব্যবস্থার বদৌলতে এই ভাইরাসকে আটকে রাখা সম্ভব হয় নি।[১] করোনা ভাইরাস তার বাহক মানুষের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে দেশ থেকে দেশে,শহর থেকে শহরে। আজকের সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ২১৬ টিরও বেশি দেশ ও অধীনস্থ অঞ্চলে নভেল করোনা ভাইরাস বিস্তার লাভ করেছে।[২] বিশ্বজুড়ে এর প্রকোপের দরুণ ২০২০ সালের ১১ই মার্চ তারিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটিকে একটি বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[৩] বর্তমানে সারাবিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৬৫ লাখের অধিক এবং মৃতের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার।[২]

আরিয়ান আরিফ মজার ইশকুল Arian Arif Mojar School ED Executive Director

Executive Director – Mojar School , August 2020

কোভিড-১৯ বিষয়ে,বাংলাদেশ বেশ বড় রকমের একটি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে,যেহেতু এটি পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। ২০২০ সালের ০৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনভাইরাস শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।[৪] কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৮ মার্চ ২০২০।[৫] এরপর থেকেই ক্রম বর্ধমান হারে সারাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকে। আজকের সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার এবং মৃত্যুর সংখ্যা ০৩ হাজারের অধিক।[৬]

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর সংক্রমণ থামাতে ১৮ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।[৭] সংক্রমণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় যা ধাপে ধাপে ৩০ মে ২০২০ তারিখ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়।[৮][৯] বিভিন্ন দেশের মত সরাসরি লকডাউনের ঘোষণা না আসলেও সারা দেশেই অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মুক্তভাবে চলাচলের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। সারা দেশে সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইরে বের হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।[১০] একইসাথে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় চলাচল বন্ধের জন্যও প্রশাসন কড়াকড়ি আরোপ করে।[১০] 

এই অঘোষিত লকডাউনের ফলে সারাদেশ,বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। আয় রোজগারের সকল পথ বন্ধ থাকায় নিম্নবিত্ত,নিম্ন মধ্যবিত্ত,এমনকি শহরের মধ্যবিত্ত শ্রেণী বিপাকের মধ্যে পড়ে। প্রয়োজন ব্যতীত চলাচল না থাকায় দৈনন্দিন আয় করা মানুষের আয় নেমে আসে শূণ্যের কোঠায়। অন্যদিকে,সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সমাজের বেতন দিতে প্রতিষ্ঠানগুলোও হিমশিম খায়। ফলে, শহরে সৃষ্টি হয় এক নতুন দরিদ্র শ্রেণী। পথে পথে বাড়তে থাকে অভাবী মানুষের সংখ্যা যারা সামান্য ত্রাণের আশায় রাস্তায় অপেক্ষা করে। ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অফ গভার্নেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর রিসার্চ অনুসারে,করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে নিম্নবিত্ত মানুষের আয়ের পরিমাণ ৮০% কমে গিয়েছে।[১১] 

দেশের এই সংকটপূর্ণ সময়ে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এগিয়ে আসে এদেশের তরুণ সমাজ। আমরা বরাবরই দেখেছি,দেশের যেকোন সংকটময় সময়ে নিজের ঝুঁকির তোয়াক্কা না করে এদেশের তরুণ সমাজ সংকট মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমরা তা দেখেছি ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে।[১২] আমরা দেখেছি ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে।[১৩]  মুক্তিযুদ্ধে তরুণরা নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় নিজের সবটুকু ঢেলে দেন। শত ত্যাগ স্বীকার করেও দেশমাতৃকার জন্য সংগ্রাম করে গিয়েছেন এই বীর সেনানীরা।[১৪][১৫]

একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের তরুণ সমাজের হয়তো যুদ্ধ মোকাবেলা করতে হয় নি। কিন্তু দেশের যেকোন দুর্যোগ মোকাবেলায় তরুণ এগিয়ে এসেছে সবসময়। তাই ২০২০ সালে যখন সারাবিশ্বের সকল মানুষ জীবন বাঁচাতে ঘরে থাকাকেই অধিক যুক্তিযুক্ত মনে করেছে,বাংলাদেশের তরুণ সমাজ তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজের দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। 

মজার ইশকুল একটি তরুণ নিয়ে গড়ে উঠা সংগঠন। তারুণ্য নির্ভর আমাদের এই সংগঠনও এই মহামারীতে পিছ-পা হয় নি। সবাই যখন সাধারণ ছুটির বন্ধে ঢাকা ছাড়ছিল,এই মহামারীতে শিশুদের পাশে থাকার লক্ষ্যে ঢাকায় অবস্থানকেই অধিকতর শ্রেয় মনে করে আমাদের স্বেচ্ছাসেবী টিম। প্রায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে মজার ইশকুল গত ০৪ মাস (২৪ মার্চ ২০২০ – ২৪ জুলাই ২০২০)এর অধিক সময় ধরে করোনা ভাইরাস ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম হিসেবে কাজ করে আসছে। আজ আপনাদের সাথে করোনা ভাইরাস মহামারীকালীন ০৪ মাসে মজার ইশকুলের কিছু উদ্যোগ শেয়ার করতে চাই।

ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম হিসেবে মজার ইশকুল কখনো কাজ করে না থাকলেও দেশের সবচেয়ে সংকটময় পরিস্থিতিতে হাত গুটিয়ে বসে থাকাকে কোন ভাবেই সমাধান বলে মনে হয় নি আমাদের। তাই ২৪ মার্চ ২০২০ থেকে মজার ইশকুল এর স্থায়ী ইশকুলের ৭০০ পরিবারকে একমাসের খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের করোনা ভাইরাস ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম হিসেবে কাজ শুরু হয়। ইশকুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও,শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ থামাই নি আমরা একদিনও। এর ফলে অভিভাবকদের কাছ থেকে নিয়মিতই আর্থিক সংকটের ব্যাপারে জানতে পারি। করোনার সময়ে যাতে খাদ্য সংকটে পড়তে না হয় তাই প্রথম ধাপে আমরা ৭০০ পরিবারকে ১৫ কেজি চাল,০৫ কেজি আলু,০৩ কেজি পেয়াজ,০৩ কেজি ডাল,২ লিটার তেল ও ১ কেজি লবণ এর একটি প্যাকেজ প্রদান করি যা ০৪ সদস্যের একটি পরিবারের একমাসের খাবারের জন্য যথেষ্ট বলে অভিভাবক জরীপের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি।[১৬][১৭] এছাড়াও খাদ্য সামগ্রীর সাথে স্বাস্থ্যসচেতনতার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে,ঈদ-উল-ফিতরের পূর্বে আমরা ৭০০ পরিবারকে পুনরায় এক মাসের জন্য খাদ্য সামগ্রী প্রদান করি যাতে ঈদের দিন অন্তত কোন পরিবারকে ক্ষুধার্ত দিন কাটাতে না হয়।[১৮][১৯] পাশাপাশি আমরা,৭০০ পরিবারকে ১৫০০ কেজি ময়দা প্রদান করি।[২০][২১] এছাড়াও,বিভিন্ন সময়ে আমরা খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত মজার ইশকুলগুলোর একাধিক পরিবারকে প্রয়োজনের ভিত্তিতে একমাসের খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেছি।[২২]  সবমিলিয়ে গত ০৪ মাসে আমরা ২১০০+ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করি যা এই দুঃসময়ে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোকে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে।

খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত মজার ইশকুল এর শিশুরা সবসময় বিশ্বাস করে মজার ইশকুল সকল পরিস্থিতিতেই তাদের পাশে থাকে। এই বিশ্বাস অটুট রাখার লক্ষ্যে আমরা ২৮ মার্চ রুটি-কলা-ডিম নিয়ে আমাদের নিয়মিত পয়েন্ট (কমলাপুর,সদরঘাট,শাহবাগ ও ধানমন্ডি)এর শিশুদের সাথে দেখা করতে গেলে দেখতে পাই পয়েন্টগুলোর এক ভিন্ন চিত্র।[২৩] হরেকরকম মানুষের আয়ের উৎস এই স্থানগুলো স্থবির হয়ে আছে। আর এখানে বসবাসকারী মানুষগুলোর পক্ষে একবেলা খাবার জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মজার ইশকুলের দেওয়া এই সামান্য রুটি-কলা-ডিম অনেকের দুইদিনে জোটা প্রথম খাবার। এই দৃশ্য আমাদের বাধ্য করে প্রতিদিন অন্তত একবেলা রান্না করা খাবার প্রদান করতে। অবশেষে, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় আমরা ৩০ মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে রাজধানী ঢাকার হাইকোর্ট, কমলাপুর ও সদরঘাট এলাকায় পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য একবেলা রান্না করা খাবার বিতরণ শুরু করি।[২৪][২৫]  ধীরে ধীরে আগারগাঁও, মানিকনগর ও গুলিস্তানেও খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেই আমরা।[২৬] রোজার সময় এই খাবার ইফতারে প্রদান করার উদ্যোগ নেই আমরা।[২৭] পাশাপাশি সদরঘাটে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য সেহেরীর আয়োজন করি।[২৮] ঈদের পর লকডাউন খুলে দিলেও অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও ছিন্নমূল মানুষ এখনো কাজের সন্ধান পায় নি। তাই আমাদের এ উদ্যোগ এখনো চলমান রয়েছে। আজ পর্যন্ত প্রায় ১,০০,০০০ সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য একবেলা রান্না করা খাবার নিশ্চিত করেছে আমাদের মজার ইশকুল টিম।

এবার ঈদ প্রসঙ্গে আসি, ২০২০ সালে সকলের মত আমরাও এক ভিন্ন ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করি। নিজ নিজ পরিবারের সাথে কাটানোর চেয়ে ঈদের দিনটি সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষের সাথে কাটানোকে অধিক শ্রেয় মনে করে আমাদের স্বেচ্ছাসেবী দল। ঈদের সকাল থেকে আমরা রাজধানীর সদরঘাট এ অবস্থান করি এবং ধাপে ধাপে ৫০০ সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য আয়োজন করি সেমাই, চিকেন বিরিয়ানি, মিষ্টি ও বিশুদ্ধ পানি।[২৯]  এছাড়া,প্রতিবছর হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মজার ইশকুলঃ ঈদ উৎসব এর আয়োজন করা হলেও,২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বৃহৎ পরিসরে এই আয়োজন করা হয়ে উঠে নি।রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও এর ২০ জন শিশুকে ঈদের পোশাক প্রদানের মধ্য দিয়ে আমরা খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে উদযাপন করি মজার ইশকুলঃ ঈদ উৎসব ২০২০,সিজন-০৮।[৩০]

মজার ইশকুল এর করোনা ভাইরাস মহামারীকালীন সময়ে অন্যতম সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করতে হয় সদরঘাটে অবস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের স্যোশ্যাল সার্ভিস সেন্টারে ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহায়তায় ও মজার ইশকুলের ব্যবস্থাপনায় ৫০ জন শিশুর স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা। করোনা ভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই মজার ইশকুল চেষ্টা করে আসছে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের সচেতন করতে, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে। পথে জীবন যাপন করা শিশুদের রাস্তায় থেকে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করা কঠিন কাজ। তাই ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহায়তায় মজার ইশকুল ০৮ এপ্রিল ২০২০ তারিখ শিশুদের স্থায়ী আবাসনের যাত্রা শুরু করে। এই স্যোশ্যাল সার্ভিস সেন্টারে শিশুদের জন্য রয়েছে খাবার, পোশাক, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদনসহ সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা। এই উদ্যোগ ১০০ দিনের অধিক সময় ধরে চলমান আছে।[৩১]

এই উদ্যোগের জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ প্রদান করতে চাই জনাব কবির বিন আনোয়ার স্যারকে (সিনিয়র সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার)। স্যারের নিজের ব্যস্ত শিডিউল থাকা সত্ত্বেও তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের স্যোশ্যাল সার্ভিস সেন্টারে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সরাসরি যুক্ত থেকে সম্পন্ন করেন। শিশুদের স্থায়ী আবাসন সংক্রান্ত সকল দায়িত্ব জনাব কবির বিন আনোয়ার স্যার এবং ইসাবেলা ফাউন্ডেশন সুনিপুণভাবে তদারকি করে যাচ্ছেন। স্যারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ব্যতীত মজার ইশকুল ৫০ জন শিশুর স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা করতে কখনোই সক্ষম হত না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের স্যোশ্যাল সার্ভিস সেন্টারে শিশুদের স্থায়ী আবাসনের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হল একটি শিশুকে অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত মজার ইশকুল এর সদরঘাট পয়েন্টের নিয়মিত শিশু সাইফুল। স্যোশ্যাল সার্ভিস সেন্টারে অবস্থানকালীন সময়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে তার প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী প্রশাসনের সহায়তায় তার বাবার সাথে যোগাযোগ করা হয়। সাইফুলকে তার বাবার নিকট ফিরিয়ে দিতে সর্বাত্মক সহায়তা করেন জনাব নাজমুন নাহার (এডিসি, ওয়ারী জোন, ডিএমপি)। অবশেষে,১০ মে ২০২০ তারিখে জনাব নাজমুন নাহার( এডিসি, ওয়ারী জোন, ডিএমপি) তার বাবার হাতে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কাজি ওয়াজেদ (ওসি, সূত্রাপুর)। সাইফুলের জীবন নতুন করে শুরু করার এই যাত্রায় মজার ইশকুল এর পাশে থাকার জন্য সম্মানিত নাজমুন নাহার এডিসি, ওয়ারী জোন, ডিএমপি)- কে  বিশেষভাবে ধন্যবাদ প্রদান করতে চাই।

মজার ইশকুল শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা এখন পর্যন্ত শিশুদের ১০০০ পিস সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ৫০০ পিস মাস্ক বিতরণ করেছি।[৩৩] এছাড়া, শিশুদের সুরক্ষায় আমরা নিয়মিত ভিত্তিতে মজার ইশকুল এরিয়া ডিসইনফেক্ট করার ব্যবস্থা করি।

 

করোনা ভাইরাস মহামারীকালীন সময়ে চাকরি বা আয়ের উৎস হারিয়েছে অনেক পরিবার। বেড়েছে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহের ঝুঁকি। ওয়ার্ল্ড ভিশন এক প্রতিবেদনে অনুমান করেছে আগামী দুই বছরে প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকবে।[৩৪] সেইভ দ্যা চিলড্রেন এর প্রতিবেদন মতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি শিক্ষার্থী আর কখনোই শিক্ষার আওতায় আসবে না।[৩৫] মজার ইশকুলের সকল শিক্ষার্থী সুবিধাবঞ্চিত পরিবার থেকে আসায় তাদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি সবসময় বেশিই থাকে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের স্থায়ী আয়ের উৎস প্রদান করতে পারলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব । তাই আমরা মজার ইশকুল স্থায়ী ইশকুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের RIKSA প্রজেক্টের আওতায় ২১ টি রিক্সা ও ০৩ টি সেলাই মেশিন প্রদান করি।[৩৬][৩৭] আমরা ২০২০ সালে ১০০০ পরিবারকে আয়ের স্থায়ী উৎস প্রদান করতে চাই যাতে নিম্ন আয়ের এই পরিবারগুলোর জীবিকা নির্বাহের জন্য তার সন্তানকে কাজে প্রেরণ করতে না হয়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুগুলোর শিক্ষার অধিকার বজায় থাকে। বর্তমানে আরো ১৪ টি রিক্সা ও ৪২ টি সেলাই মেশিন দেওয়ার উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এছাড়াও মজার ইশকুল পুরো মহামারীকালীন সময়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার জন্য ছোট ছোট উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 

  • মজার ইশকুলঃ মানিকনগর এর এক শিক্ষার্থীর মায়ের চিকিৎসা খরচ বহন করি আমরা। মজার ইশকুলঃ মানিকনগর এর তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাইদ শেখ এর মা রমিজা (৬০) কিডনী জনিত সমস্যায় ভুগছেন দীর্ঘদিন ধরেই। করোনাভাইরাস মহামারীকালীন সময় কোন আয় না থাকায় বিপাকে পড়ে এই পরিবার। দিন দিন শিক্ষার্থীর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও চিকিৎসার টাকা জোগাড় হচ্ছিল না কিছুতেই। এই অবস্থায় তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় মজার ইশকুল। সাইদ শেখ এর মা এর ডাক্তার ও ওষুধ বাবদ যাবতীয় খরচ বহন করি আমরা।

 

  • খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত মজার ইশকুল এর সদরঘাট পয়েন্টে নিয়মিত খাবার প্রদানের সময় আমাদের পরিচয় হয় কোহিনূর নামের এক মায়ের সাথে। তার কোলে ছিল সদ্য জন্ম নেওয়া শিশু। বাড়িভাড়া দিতে না পারায় তাকে ১২ দিন বয়সী সদ্যজাত শিশুকে নিয়ে রাস্তায় নেমে আসতে হয়। এই অবস্থায় রাস্তায় জীবন কাটানোর ভয়াবহতা উপলব্ধি করে আমরা তাকে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জে ০৬ মাসের বাড়িভাড়াসহ ঘর ভাড়া করে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। শুধু ঘরভাড়া দিয়েই শেষ নয়। এই মাকে দুইধাপে আমরা এক মাসের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করি। মজার ইশকুল এর এই ছোট উদ্যোগ এর ফলে জীবন বাঁচে একটি শিশুর।[৩৮]

 

  • মজার ইশকুলঃ আগারগাঁও এর নিয়মিত শিক্ষার্থী রায়হান,রাকিব ও ইমরানের বড়বোনের বিয়ের আয়োজন করতে তাদের বাবাকে সহায়তা করে মজার ইশকুল পরিবার। এই ০৩ শিক্ষার্থীর বড়বোনের বিয়ে ঠিক হয় করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পূর্বেই। কিন্তু মহামারীতে আয়ের সকল উৎস বন্ধ থাকায় তাদের বাবার পক্ষে কোন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ অবস্থায় মজার ইশকুল পাশে এসে দাঁড়ায়। ৩০ জন বরযাত্রীর জন্য ভাত, গরুর মাংস ও সেমাই এর আয়োজনের সকল উপকরণ আমরা এই পরিবারের হাতে তুলে দেই। শিক্ষার্থীদের পরিবারের এই আনন্দঘন মূহুর্তে পাশে থাকতে পেরে মজার ইশকুল টিম অত্যন্ত আনন্দিত।

সব মিলিয়ে এই ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে মজার ইশকুল পুরো করোনা ভাইরাস মহামারীর সময় চেষ্টা করে গিয়েছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর পাশে থাকার। 

আর এই উদ্যোগগুলো সফল করার জন্য মজার ইশকুলের প্রায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী ০৪ মাস এর অধিক সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাস ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম হিসেবে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা প্রায় ৫০,০০০ ঘন্টা কাজ করেছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর এই মহামারীতে টিকে থাকতে সহায়তা করার লক্ষ্যে। আমাদের জন্য সবচেয়ে খুশির সংবাদ এই যে, বিগত ০৪ মাস জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা সত্ত্বেও আমাদের একজন স্বেচ্ছাসেবীও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয় নি। এই সফলতায় আমাদের সকলের সচেতনতার এক বিরাট ভূমিকা রয়েছে। আমাদের প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবীর সুরক্ষা জন্য পর্যাপ্ত পিপিই,মাস্ক,গ্লাভস,হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর ব্যবস্থা করেছি। এখন পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবীদের আমরা ৫০+ পিপিই,১০৫০০ পিস মাস্ক,১০০০০ পিস গ্লাভস এর ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও প্রতিজনের জন্য ছিল পর্যাপ্ত সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার । পাশাপাশি আমাদের পুরো টিম স্বাস্থ্য নিয়মাবলিসমুহ পূঙ্খানুপূঙ্খভাবে মেনে চলেছে যা আমাদের রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিয়েছে অনেকাংশেই।

এছাড়াও,বিভিন্ন সময় কাজের দরুণ আমাদের ০৩ জন স্বেচ্ছাসেবী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচ বহন করে সংগঠন। ঝুঁকিপূর্ণ এই সময়ে আমাদের টিমমেম্বারদের সুরক্ষাই আমাদের প্রাধান্য ছিল সবচেয়ে বেশি।

৩১ মে ২০২০ তারিখ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি তুলে দিলেও করোনা ভাইরাস মহামারির ঝুঁকি কমে নি মোটেও। সাথে যুক্ত হয়েছ অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা।[৩৯] পূর্ববর্তী ইতিহাস বলে সকল মহামারী তার সাথে বয়ে আনে অর্থনৈতিক মন্দা। এই মন্দায় টিকে থাকার জন্য এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে আমরা আমাদের খরচ কমানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। ঢাকাস্থ আমাদের দুই ইশকুলের বাড়ি ভাড়ায় ছাড়ের জন্য আমরা আমাদের বাড়ির মালিকপক্ষের সাথে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছি। দুই বাড়ির মালিকপক্ষ আমাদের পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পেরে ১০%  ছাড় দিতে সম্মত হয়েছেন। 

খরচ কমানোর লক্ষ্যে আমরা খিলগাঁও রেলগেটে অবস্থিত অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের অর্ধেক অফিস স্পেস ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের মনে হয়েছে এই মূহুর্তে অফিস স্পেসের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো। 

করোনা ভাইরাস ইমার্জেন্সি রেসপন্স এর পুরো সময় জুড়ে আমাদের বিশালভাবে সাপোর্ট দিয়েছে মজার হোটেল এন্ড রেস্তোরা। অদম্য বাংলাদেশ স্যোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ এর উদ্যোগ মজার হোটেল এন্ড রেস্তোরা ২০১৯ সালের অক্টোবরে এর যাত্রা শুরু করে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে চলা সাধারণ ছুটির সময় স্বাভাবিকভাবেই হোটেল বন্ধ রাখতে হয়। করোনা ভাইরাস ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম যখন নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করে তখন মজার হোটেল এন্ড রেস্তোরা এর প্রধান কার্যালয়ের ভূমিকায় উন্নীত হয়। প্রতিদিনের খাবার রান্না, খাবার প্যাকিং, খাদ্যসামগ্রী বণ্টনসহ করোনা ভাইরাস ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের যাবতীয় কার্যক্রম এখানেই পরিচালনা করা হয়। জরুরী এই সময়ে মজার হোটেল এন্ড রেস্তোরা আমাদের অনেক খরচ ও শ্রম কমিয়ে দিতে ভূমিকা রাখে।

সাধারণ ছুটি চলাকালীন সময়ে যানবাহন চলাচল সীমিত থাকায় স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতিমাসে স্বেচ্ছাসেবীদের যাতায়াতবাবদ আমাদের দুই লাখ টাকার অধিক খরচ হয়ে যাচ্ছিল। এই খরচ কমানোর লক্ষ্যে আমরা ৬০ মাসের কিস্তিতে একটি পিকআপ ক্রয় করি যা আমাদের প্রতিটি পয়েন্টে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে। এই উদ্যোগ খরচ ও সময় এর অপচয় কমিয়েছে অনেকাংশে। 

নিজস্ব যানবাহনের ব্যবস্থা থাকায় আমরা অদম্য বাংলাদেশ স্যোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ এর আরেকটি উদ্যোগ মজার দোকান এর মাধ্যমে দিনাজপুরের বেদানা লিচু ও রাজশাহীর ল্যাংড়া আম বিক্রির উদ্যোগ নেই। অনলাইন ভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা ৭০,০০০ পিস দিনাজপুরের বেদানা লিচু এবং ২০০০ কেজি রাজশাহীর ল্যাংড়া আম বিক্রি করতে সক্ষম হই।[৪০] [৪১] ফল বিক্রির মাধ্যমে আমাদের মোট লাভের পরিমাণ ছিল ৮৪,০০০ টাকা। উক্ত লভ্যাংশের শতভাগই মজার ইশকুলের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়েছে।

বিগত ০৪ মাস ধরে মজার ইশকুল পরিবার করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় ভিন্ন ভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকলেও, এখন আমাদের মূল লক্ষ্য সুবিধাবঞ্চত মানুষদের জন্য কোরবানির আয়োজন করা। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণী প্রতিটি ঈদ-উল-আযহায় হয়তো বাড়ি বাড়ি যেয়ে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করে, কিন্তু মাংস রান্না করে খাওয়ার সৌভাগ্য তাদের খুব কম হয়। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে তারা রান্না করার চেয়ে এই মাংস বিক্রি করতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। মজার ইশকুল ২০১৭ সাল থেকেই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য কোরবানির আয়োজন করে আসছে। ২০২০ সালের এই করোনাভাইরাস মহামারীতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কোরবানি একটি অলীক স্বপ্ন। এই স্বপ্নটা আমরা সত্যি করতে চাই। আপনাদের সাহায্যে আমরা ঢাকা ও মনপুরা (ভোলা) এর সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কোরবানির আয়োজন করতে চাই। ইতিমধ্যে,আমরা শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট থেকে কোরবানির জন্য ১১টি গরু ও ০৪ টি ছাগলের নিশ্চয়তা পেয়েছি।[৪২]

সবশেষে, মজার ইশকুল এর নতুন শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য বলতে চাই, মজার ইশকুল একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক সংগঠন যা ২০১৩ সাল থেকেই পথশিশুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।

বর্তমানে ঢাকা ও মনপুরায় (ভোলা)মজার ইশকুল ৮ টি শাখায় প্রায় ২০০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে পৌঁছাতে পারে। এরমধ্যে ৪টি স্থায়ী ইশকুল এ ৭০০ জন সুবিধাবঞ্চিত জাতীয় শিক্ষাক্রমানুসারে বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। বাকি ৪টি খোলা আকশের নিচে পরিচালিত ইশকুল, যার মাধ্যমে প্রতিমাসে প্রায় ১,৩০০ শিশুর কাছে পৌঁছাতে পারছি আমরা।[৪৩]

ধন্যবাদ সকল ডোনার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযোদ্ধাদের যারা না থাকলে এই করোনাভাইরাস মহামারীতে অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাড়ানোর সৌভাগ্য মজার ইশকুল এর কখনোই হত না। বর্তমান অবস্থায় সবাই সতর্ক থাকুন। আপনাদের সকলের সুস্থতা কামনা করছি। শুভ দিন আসবেই।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রেফারেন্সঃ

১. করোনাভাইরাস: চীনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কী জানা গেছে।।  বিবিসি বাংলা। ২০২০-০১-২০। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮

২. Coronavirus disease (COVID-19) pandemic।। World Health Organization (WHO) Retrieved 2020-07-28 

৩.করোনাভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা।। প্রথম আলো । ২০২০-০৩-১২। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮

৪. বাংলাদেশে প্রথম তিন করোনা রোগী শনাক্ত।। সময় নিউজ । ২০২০-০৩-০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮

৫. বাংলাদেশে আক্রান্ত ১ জনের মৃত্যু, আরো চার জন আক্রান্ত।। বিবিসি বাংলা । ২০২০-০৩-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮

৬. বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস আপডেট করোনা ইনফো, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

৭. ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ।। প্রথম আলো । ২০২০-০৩-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮

৮.  সেনা মোতায়েন,চৌঠা এপ্রিল সব সরকারি অফিস বন্ধ ।। বিবিসি বাংলা। ২০২০-০৩-২৩। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮

৯. বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না,গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্তবিবিসি বাংলা। ২০২০-০৫-২৭। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮

১০. ঘরে থাকতে হবে সন্ধ্যা ৬টা-সকাল ৬টা, অন্য সময়ও শর্ত।। প্রথম আলো ।। ২০২০-০৪-১১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮

১১. Poor income drops 80% in Bangladesh।। Anadolu Agency।। 2020-04-17।। Retrieved 2020-07-28 

১২.যে ভাবে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।। দৈনিক ইনকিলাব।। ২০১৮-০২-০৮।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

১৩.ইতিহাস।। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

১৪. ক্র্যাক প্লাটুন:মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার বুকে কাঁপন ধরানো গেরিলাদল।। রোর বাংলা।। ২০২০-০৩-০৮।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

১৫. তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের অনবদ্য ভূমিকা।। একুশে টিভি।। ২০১৯-০৩-১৭।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

১৬. ১ মাসের খাবার বিতরণ, পথশিশুদের অভিভাবক ও শিশুদের জন্য।। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ।। ২০২০-০৩-২৭।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

১৭. ভোলার জেলার, মনপুরা উপজেলার মানুষের পাশে মজার ইশকুল। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ।। ২০২০-০৬-১৩।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

১৮. ২৫ রোজায়, ঈদের আগে যাতে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারে খাবার থাকে তা নিশ্চিত করতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, মজার ইশকুলঃ আগারগাঁও। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ।। ২০২০-০৫-২০।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

১৯. ২৫ রোজায়, ঈদের আগে যাতে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারে খাবার থাকে তা নিশ্চিত করতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, মজার ইশকুলঃ মানিকনগর। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ।। ২০২০-০৫-২০।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

২০. ১,০০০ কেজি ময়দা বিতরণ করা হলো, মানিকনগরের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে । মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ।। ২০২০-০৪-১৮।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

২১. ৪০০ কেজি আটা / ময়দা পেলো ৪০ টি ছিন্নমূল পরিবার।। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ। ২০২০-০৬-১৪।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

২২. সদরঘাটে এক মাকে এক মাসের খাদ্য সামগ্রী প্রদান। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ। ২০২০-০৫-১৮।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

২৩. সদরঘাটের পথশিশুদের খাবার দেয়া।। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ। ২০২০-০৩-২৮।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

২৪. পথশিশুদের জন্য রান্না করা খাবার বিতরণ।। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ ।। ২০২০-০৩-৩০।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

২৫. পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষদের জন্য প্রতিদিন রান্না করা খাবার।মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ ।। ২০২০-০৪-১৪।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

২৬. মহামারির সময় পথে থাকা শত শত ছিন্নমূল মানুষদের খাবার প্রদান।। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ ।। ২০২০-০৪-১৪।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

২৭. ১ম ইফতার।। মজার ইশকুল ::Mojar School l ফেসবুক পেজ ।। ২০২০-০৪-২৫।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

২৮. সেহেরী।। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ ।। ২০২০-০৫-০৪।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

২৯. করোনায় ( Covid19) মজার ইশকুলের অন্যরকম ঈদ আয়োজন ২০২০।। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ ।। ২০২০-০৭-১৫।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

৩০. মজার ইশকুলঃ ঈদ উৎসব ২০২০। মজার ইশকুল ::Mojar School ইউটিউব চ্যানেল ।। ২০২০-০৬-২২।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

৩১. সদরঘাটের সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রেমজার ইশকুল :: Mojar School এর ব্যবস্থাপনায় থাকা পথশিশুদের পরিবর্তন।। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ ।। ২০২০-০৫-০৪।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

৩২. সাইফুলের বাড়ি ফেরা।। মজার ইশকুল ::Mojar School এর এক্সিকিউটিভ ডিরেকটর আরিয়ান আরিফ এর ফেসবুক টাইমলাইন । ২০২০-০৫-১০।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮। 

৩৩. সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাস্ক বিতরণ।। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ ।। ২০২০-০৭-০৪।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

৩৪. Coronavirus could put 4 million girls at risk of child marriage।। World Economic Forum।। 2020-05-29।। Retrieved 2020-07-28 

৩৫. School Closure Amid Pandemic: Dropout rise a major concern।। The Daily Star।। 2020-07-18।। Retrieved 2020-07-28 

৩৬. করোনায় বিপদগ্রস্ত আরও ২১ পরিবারকে রিকশা দিল মজার ইশকুল।। মজার ইশকুল ::Mojar School ফেসবুক পেজ।। ২০২০-০৭-২০।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

৩৭. করোনায় বিপদগ্রস্ত আরও ২১ পরিবারকে রিকশা দিল মজার ইশকুল।। চ্যানেল আই অনলাইন ।। ২০২০-০৬-৩০।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

৩৮. এক নবজাতক শিশু ও তার মায়ের আবাসন নিশ্চিত করা।। মজার ইশকুল ::Mojar School এর এক্সিকিউটিভ ডিরেকটর আরিয়ান আরিফ এর ফেসবুক টাইমলাইন । ২০২০-০৫-১০।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮। 

৩৯. করোনাভাইরাস: মহামারির পর বিশ্ব অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে কতদিন লাগতে পারে? বিবিসি বাংলা। ২০২০-০৫-১৩।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮। 

৪০.১০০% অগ্রীম পেমেন্টে ২০০০ কেজি রাজশাহীর ল্যাংড়া আম সোল্ড আউট করলো মজার দোকান:: Mojar Shop।। মজার ইশকুল ::Mojar School ওয়েবসাইট ।। ২০২০-০৭-০৩।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

৪১. ৭৭,০০০ পিস বেদানা লিচু সোল্ড আউট করলো মজার দোকান:: Mojar Shop।। মজার ইশকুল ::Mojar School ওয়েবসাইট ।। ২০২০-০৭-০৩।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

৪২. কোরবানি ২০২০।। মজার ইশকুল ::Mojar School ওয়েবসাইট ।। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৮।

৪৩. মজার ইশকুল ::Mojar School ওয়েবসাইট

 

 

 

 

 

 

 

আরিয়ান আরিফ মজার ইশকুল Arian Arif Mojar School ED Executive Director

মজার ইশকুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে Executive Director Arian Arif

 

Dear well-wishers, colleagues and volunteers,

We are all aware that the whole world, including Bangladesh, has been going through a critical period since the beginning of 2020. The world has not had to face such a crisis in the last century. That is the Novel Coronavirus (COVID-19). Although a completely new strain of the virus was introduced in Wuhan, China, in December 2019, it has not been possible to detrain the virus due to the world’s improved transportation systems. [1] The coronavirus has spread from country to country, from city to city, through its carriers which are basically human. According to the latest data available today, the Novel Coronavirus has spread to more than 216 countries and territories around the world. [2] Due to its global outbreak, on 11 March 2020, the World Health Organization (WHO) declared COVID-19 as a pandemic. [3] At present, the total number of worldwide affected people is more than 16.5 Million and the number of deaths is 6.55 lakhs. [2]

Regarding Covid-19, Bangladesh has faced a big test as it is one of the most densely populated countries in the world. On March 08, 2020, the first coronavirus was confirmed in Bangladesh. [4] The first death in Bangladesh from Covid-19 occurred on March 18, 2020. [5] Since then, coronavirus cases have been on the rise across the country. According to the latest data available today, the number of affected people in Bangladesh is 2.35 lakhs and the number of deaths is more than 03 thousand. [6]

After the first corona patient was identified in the country, all educational institutions in the country were declared closed from 18 March 2020 to stop further spread.[7] Due to the increase in the number of coronavirus cases, a general holiday was declared across the country from March 26, 2020, which was gradually extended to May 30, 2020.[8] [9] Unlike many other countries, there were no direct lockdown announcements, but there were restrictions on free movement throughout the country unless necessary. The Ministry of Public Administration had issued a notification announcing to take legal action if people go out from 6 pm to 6 am across the country. [10] At the same time, the administration imposed restrictions on movement from one area to another. [10]

 

As a result of this unannounced lockdown, the whole country, especially the capital Dhaka, came to a complete standstill. The lower class, the lower middle class, and even the urban middle class fall into crisis as all sources of income were closed. As people had to stay home and could not come out without an emergency, the earning of daily wagers came to zero. On the other hand, as all the institutions were closed, the institutions were struggling to pay the salaries of the lower middle class and middle-class society. As a result, a new poor class had been created in the city. There was a wave of needy people who used to wait on the streets in the hope of little relief. According to research by the BRAC Institute of Governance and Development, the corona situation has reduced the income of the lower class people of Bangladesh by 80%. [11]

In this critical time of the country, along with government support, the youth of Bangladesh came forward. We have seen that the youth of Bangladesh always come forward to tackle any crisis of their motherland without thinking of their life risks. It was seen in the language movement of 1952.[12] It was seen in the great Bangladesh Liberation War of 1971. [13] In the Liberation War, the youths risked their lives for the independence of their country. These heroic fighters had fought for patriotism accepting hundreds of sacrifices. [14] [15] 

The youths of 21st century Bangladesh may not have had to deal with war. But these youths have always come forward to deal with any disaster in the country. So in 2020, when people of the whole world thought it was more reasonable to stay at home to save their lives, the youth of Bangladesh stood by the people of their country at the risk of their lives. 

Mojar School is an organization formed with youth. Our youth-oriented organization has not backed down from this pandemic. While everyone was leaving Dhaka after the announcement of the general holiday, our volunteer team preferred to stay in Dhaka to stay by the side of underprivileged children in this pandemic. With the participation of almost a hundred volunteers, Mojar School has been working as a Corona Virus Emergency Response Team for the last 4 months (24 March 2020 – 24 July 2020). Today I would like to share with you some of the initiatives of Mojar School in the 04 months of the Coronavirus pandemic.

Although Mojar School Team had never worked as an emergency response team, we did not think sitting at home can support the underprivileged children in the most critical situation of the country. So from March 24, 2020, we started working as a Corona Virus Emergency Response Team with the aim of providing one month’s ration to 700 families of Mojar School: Permanent Schools. Although the regular class activities of the students were closed due to the holiday of the school, we did not stop regular communication with the students even for a single day. As a result, we learned about the financial crisis from their guardians. In order to avoid the food crisis in this lockdown, we provide 700 families with a package of 15 kg rice, 05 kg potato, 03 kg onion, 03 kg pulses, 2-liter oil, and 1 kg salt which is enough amount of food supply for a family of 4 members. We found out through a survey from guardians about their monthly food supplies. [16] [17] Hand sanitizers and soap were also provided for health awareness. Subsequently, before Eid-ul-Fitr, we again distributed ration to 700 families for one month so that at least these families did not have to starve on Eid day. [18] [19] We also distributed 1,500 kg of flour to 700 families. [20] [21] Besides, we gave one month’s worth of ration to multiple families in Under the Sky Mojar School. [22] In total, we provided ration to 2,100+ families that helped low-income people to survive these difficult times. 

The children of the Under the Sky Mojar School always believe that Mojar School will always stay by their side in all situations. In order to keep this belief intact, on March 28, we visited the children of our regular points (Komlapur, Sadarghat, Shahbag, and Dhanmondi) with bread, banana, and eggs. When reached there, we saw a different scenario in these areas. [23] These areas which were the sources of income of many people, had become stagnated. And it had become impossible for the people living here to manage daily meals. The bread, banana, and egg given by Mojar School was the first meal in two days for most of the people in these areas. This scenario compelled us to provide cooked food at least once a day. Finally, with the help of well-wishers, we started distributing one cooked meal to street children and uprooted people in the High Court, Komlapur and Sadarghat areas of the capital Dhaka from March 30, 2020. [24] [25] Our initiative to provide food started in Agargaon, Maniknagar, and Gulistan gradually. [26] We shifted our time of providing food to Iftar during Ramadan. [27] Besides, we organized seheri for the underprivileged people at Sadarghat. [28] Despite the opening of the lockdown after Eid, many underprivileged children and marginalized people have yet to find work. So our initiative is still going on. Till today, our team has ensured one cooked meal for about 100,000 underprivileged street children and marginalized people. 

Now let’s come to the topic of Eid. Like everyone else, we also celebrate a different Eid-ul-Fitr in 2020. Our volunteer team chose to spend Eid with underprivileged people than with their families. Since the morning of Eid, we stayed at Sadarghat Launch Terminal and organized a meal including semai, chicken biryani, sweet and pure water for 500 underprivileged street children, and marginalized people. [29] Besides that, every year Mojar School celebrates Eid-ul-Fitr with thousands of underprivileged children via Mojar School Eid Festival. But in 2020, we did not have the opportunity to organize Mojar School Eid Festival on a large scale due to the coronavirus pandemic. So, we distributed new dresses to 20 underprivileged children of Khilgaon, Dhaka to celebrate a small Mojar School Eid Festival 2020, Season-08. [30]

One of the successes of Mojar School in this coronavirus pandemic is to arrange a permanent shelter for 50 street children in the Sadarghat Social Service Building of Dhaka South City Corporation with the help of Isabella Foundation. Since the beginning of the coronavirus pandemic, Mojar School has been trying to raise awareness among underprivileged children, reducing their risk of infection. Protecting underprivileged children from the coronavirus while they are still staying on the streets is a difficult task. So, with the overall support of the Isabella Foundation, Mojar School started its journey of permanent shelter for underprivileged children on 08 April 2020. This social service center has all kinds of facilities for children including food, clothing, education, medical, entertainment. This initiative has been running for more than 100 days. [31]

I would like to thank Mr. Kabir Bin Anwar sir (Senior Secretary, Ministry of Water Resources, People’s Republic of Bangladesh) for this initiative. Despite Sir’s busy schedule, he directly involved with the arrangement of permanent shelter for underprivileged street children at the Dhaka South City Corporation’s Social Service Center. Mr. Kabir Bin Anwar Sir and Isabella Foundation are handling all the responsibilities related to the permanent shelter of the children. Without Sir’s direct supervision, Mojar School would never have been able to accommodate 50 children permanently.

A significant achievement of the permanent shelter of children in the Dhaka South City Corporation’s Social Service Center is the return of a child to his parents. Saiful is a regular child of Under the Sky Mojar School Sadarghat Point. During his stay at the Social Service Center, he told one of our volunteers about his wish to return home. According to the information provided by him, his father was contacted with the help of the administration. Nazmun Nahar (ADC, Wari Zone, DMP) did her best to help Saiful to return to his father. Finally, on May 10, 2020, Nazmun Nahar (ADC, Wari Zone, DMP) handed over Saiful to his father. Kazi Wazed (OC, Sutrapur) was also present at the time. Special thanks to Nazmun Nahar (ADC, Wari Zone, DMP) for being by the side of Mojar School in this journey of starting Saiful’s new life.[32]

Mojar School has taken various initiatives for raising health awareness among underprivileged children. We have so far distributed 1000 pieces of soap and hand sanitizer and 500 pieces of masks to underprivileged children.[33] Besides, to protect children, we disinfect Mojar School areas regularly.

During the coronavirus pandemic, many families have lost their jobs or sources of income. The risk of child labor and child marriage has been increased. A report by World Vision estimates that about 4 million children will be at risk of child marriage in the next two years.[34] Save the Children reports that around 10 million students worldwide will never be returned to school again. [35] As all of our students come from underprivileged families, the risk of their dropping of school has always been high. This pandemic has increased it more. We think this risk can be reduced if we can provide a source of permanent income to their parents. So we distributed 21 rickshaws and 03 sewing machines under the RIKSA project to the parents of the students of Mojar School: Permanent School. [36] [37] We want to provide a sustainable source of income for 1,000 families by 2020 so that these low-income families do not have to send their children to work to earn a living. Underprivileged children can retain their right to education. At present, the initiative of giving 14 rickshaws and 42 sewing machines are in the process.

Mojar School has also taken small initiatives to stand by underprivileged people throughout the pandemic. 

  • We provided medical expenses of a family of a student of Mojar School: Maniknagar. Ramiza (60), mother of Saeed Sheikh (a student of Class three, Mojar School: Maniknagar), has been suffering from kidney problems for a long time. During the coronavirus pandemic, this family suffered because they had no income to buy medicine or visiting a doctor. Although the physical condition of the student’s mother deteriorated day by day, no money was being raised for the treatment. In this situation, Mojar School came and stood by their side. We bear all the expenses of Saeed Sheikh’s mother’s doctor and medicine. 
  • While distributing food in Under the Sky Mojar School, we met with a mother name “Kohinoor” at Sadarghat point. She had a newborn baby in her lap. As she was unable to pay the rent, she had to leave the house and start living on the streets with her 12-day-old baby. Realizing the horror of living on the streets in this situation, we decided to rent her a house for 06 months in Keraniganj, on the other side of the river Buriganga. Not only that, but we also provided her ration of one month for several times. This small initiative of Mojar School saved the life of a newborn child. [38] 
  • We helped to arrange the wedding of the elder sisters of Raihan, Rakib, and Imran (regular students of Agargaon). The marriage of the elder sister of these students was fixed just before the Corona pandemic started. As coronavirus pandemic brings a lockdown with it, all income sources of their father were cut off. So, their father couldn’t make any arrangements. In this situation, Mojar School came forward and stood beside him. We handed over all the materials for arranging rice, beef, and semai for 30 people to this family. Mojar School team is very happy to be by the side of the students’ family on this happy occasion. 

Through all these small initiatives, Mojar School has tried to stay by the side of the underprivileged people during the whole coronavirus pandemic.

To make these initiatives successful, almost a hundred volunteers of Mojar School have been working for more than 04 months. As a Coronavirus Emergency Response Team, our volunteers have worked around 50,000 hours to help underprivileged people to survive this pandemic. The best news for us is that not a single person of our volunteers has been infected with Covid-19 in the last 4 months, despite working in the field. The awareness of all of us has a huge role to play in this success. We have provided adequate PPE, masks, gloves, hand sanitizer for the protection of each of our volunteers. So far we have provided 50+ PPE, 10500 pieces of masks, 10000 pieces of gloves to the volunteers. There was also enough soap and hand sanitizer for everyone. Also, our entire team adheres strictly to health regulations that have greatly reduced our risk of disease.

Besides, when 03 of our volunteers became ill due to work at different times, the organization bore the full cost of their medical treatment. The safety of our teammates has always been our top priority at this time of risk.

Although the government lifted the general holiday on May 31, 2020, the risk of the coronavirus has not diminished at all. Besides, now there is a high possibility of an economic downturn. [39] History has shown that all pandemics carry an economic downturn with them. In order to survive this economic downturn and stand by the underprivileged people, we are doing our best to reduce our costs. We have tried to negotiate with the owner of the buildings of our two schools in Dhaka to get a discount on the rent. Both the owners of the buildings realized our situation and agreed to give a 10% discount. 

In order to reduce the cost, we have decided to leave half the office space of the Odommo Bangladesh Foundation head office at Khilgaon Railgate. We feel that supporting the underprivileged people is more important than office space at this moment. 

I have to mention that Mojar Hotel & Restaurant has given us tremendous support throughout the whole time of Coronavirus Emergency Response. Mojar Hotel & Restaurant, an initiative of Odommo Bangladesh Social Enterprise, started its journey in October 2019. But, the hotel had to remain closed from March, 2020 because of the declaration general holiday. So, Mojar Hotel & Restaurant had become the head office of the Corona Virus Emergency Response Team when we started regular activities. All the activities of the Corona Virus Emergency Response Team including daily cooking, food packing, food distribution were conducted here. Mojar Hotel & Restaurant helped us a lot to reduce our costs and labor at this time of emergency.

Due to the limited movement of vehicles during the general holidays, it was costing us more than two lakh taka per month for volunteer transportation. To reduce this cost, we purchase a pickup in 60-month installments that deliver food to each of our points. This initiative has greatly reduced the cost and waste of time. 

As we had our own transport, we took the initiative to sell mango and litchi through Mojar Shop which is another initiative of Odommo Bangladesh Social Enterprise. Through this online-based platform, we were able to sell 70,000 pieces of Bedana Litchi from Dinajpur and 2000 kg of Langra Mango from Rajshahi. [40] [41] Our total profit from fruit sales was Tk. 84,000. 100% of this profit has been used to improve the lives of underprivileged children through Mojar School.

Over the past four months, Mojar School family has taken different initiatives to combat the Coronavirus pandemic. Now our main goal is to organize Qurbani for the underprivileged people. The underprivileged people of the society may go from house to house every Eid-ul-Adha and collect the meat, but they have very little chance of cooking and eating the meat. Because of the lack of the necessary ingredients, they feel more comfortable selling this meat than cooking it. Mojar School has been organizing sacrifices for underprivileged people since 2017. Eating beef in Qurbani is a dream for underprivileged people in this coronavirus pandemic of 2020. We want to make this dream true. With your help, we want to organize Qurbani for the underprivileged people of Dhaka and Monpura (Bhola). We have already received assurances from the well-wishers that 11 cows and 04 goats will be sacrificed through Mojar School.[42]

Finally, for the new well-wishers of Mojar School, Mojar School is a non-political, non-profit organization that has been working since 2013 to build street children free Bangladesh.

 

We work in 4 phases for achieving our goals. In those 4 phases, we are actively running 08 schools. Mojar school connects with at least 2000 children each month through these schools. In 04 permanent schools situated in Dhaka and Monpura (Bhola), 700 underprivileged children are studying for free of cost by following the national curriculum of Bangladesh. Another 1300 children regularly connect with Mojar School through the 04 Under the Sky: Mojar School in Dhaka. [43] 

Thanks to all the donors, well-wishers, colleagues and volunteers, without whom Mojar School would never have had the chance to stand by the countless underprivileged people in this coronavirus pandemic. I wish you all remain healthy. Stay Safe. Better days yet to come.

 

References:

  1. “Novel Coronavirus—China”World Health Organization (WHO).Retrieved 28 July 2020.

 

  1. Coronavirus disease (COVID-19) pandemic. World Health Organization (WHO). Retrieved 2020-07-28

 

  1.  “WHO Director-General’s opening remarks at the media briefing on COVID-19—11 March 2020”World Health Organization. 11 March 2020. Retrieved 28 July 2020.

 

  1. First 3 cases of coronavirus confirmed in Bangladesh. Dhaka Tribune. 08 March 2020. Retrieved 28 July 2020.

 

  1. Bangladesh reports first coronavirus death, number of active cases now 14. The Daily Star. 08 March 2020. Retrieved 28 July 2020.

 

  1. Coronavirus Disease 2019 (COVID-19) Information Bangladesh (in Bengali). corona.gov.bd. Retrieved 28 July 2020.

 

  1. All educational institutions closed till March 31: Dipu Moni. The Daily Star. 16 March 2020. Retrieved 28 July 2020.

 

  1. 10-day holiday in Bangladesh from Thursday. New Age. 23 March 2020. Retrieved 28 July 2020.

 

  1. Covid-19: Bangladesh likely to end general holiday on May 31.  Dhaka Tribune. 27 May 2020. Retrieved 28 July 2020.

 

  1.  Don’t go out after 6pm. The Daily Star. 11 April 2020. Retrieved 28 July 2020.

 

  1.  Poor income drops 80% in Bangladesh. Anadolu Agency. 17 April 2020. Retrieved 28 July 2020.

 

  1.  Significance of International Mother Language Day. The Daily Star. 21 February 2013. Retrieved 28 July 2020.

 

  1.  War of Liberation. Banglapedia. Retrieved 28 July 2020.

 

  1. A CALL TO WAR HOW THE CRACK PLATOON WAS FORMED. The Daily Star. 20 March 2018. Retrieved 28 July 2020.

 

  1. Freedom Fighters. Bangladesh Genocide Archive. Retrieved 28 July 2020.

 

  1. 1 month’s ration distribution, for the parents of street children (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 27 March 2020. Retrieved 28 July 2020.  
  1. Mojar School next to the people of Monpura upazila of Bhola district (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 13 June 2020. Retrieved 28 July 2020.
  2. 18. On the 25th of Ramadan, distribution of food items to underprivileged families before Eid, Mojar School: Agargaon (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 20 May 2020. Retrieved 28 July 2020.
  3. On the 25th of Ramadan, distribution of food items to underprivileged families before Eid, Mojar School: Maniknagar (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 20 May 2020. Retrieved 28 July 2020.
  4. 1,000 kg flour was distributed among underprivileged families in Maniknagar (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 18 April 2020. Retrieved 28 July 2020.
  5. 40 kg of flour was given to 40 underprivileged families (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 14 June 2020. Retrieved 28 July 2020.
  6. Providing one month’s ration to a mother in Sadarghat (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 18 May 2020. Retrieved 28 July 2020.
  7. Meal for the street children of Sadarghat (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 28 March 2020. Retrieved 28 July 2020.
  8. Distribution of cooked food for street children (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 30 March 2020. Retrieved 28 July 2020.
  9. Daily cooked meal for street children and uprooted people. (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 14 April 2020. Retrieved 28 July 2020.
  10. Providing food to hundreds of underprivileged people on the way during the pandemic (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 14 April 2020. Retrieved 28 July 2020.
  11. 1st Iftar (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 25 April 2020. Retrieved 28 July 2020.
  12. Seheri (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 04 May 2020. Retrieved 28 July 2020.
  13. Corona (Covid-19): Mojar School organizes a different Eid 2020 (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 15 July 2020. Retrieved 28 July 2020.
  14. Mojar School: Eid festival 2020 (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Youtube Channel. 20 June 2020. Retrieved 28 July 2020.
  15. Change of street children under the management of Mojar School at Sadarghat Social Service Center (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 04 May 2020. Retrieved 28 July 2020.

32.Saiful’s Journey to home. (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Executive Director Arian Arif’s Facebook Timeline. 10 May 2020. Retrieved 28 July 2020.  

  1. Distribution of masks to underprivileged children. (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 04 June 2020. Retrieved 28 July 2020.
  2. Coronavirus could put 4 million girls at risk of child marriage. World Economic Forum. 29 May 2020. Retrieved 28 July 2020.
  3. 35. School Closure Amid Pandemic: Dropout rise a major concern. The Daily Star. 18 July 2020. Retrieved 28 July 2020.
  4. Mojar School gave rickshaws to 21 corona-afflicted families (Bangla). মজার ইশকুল ::Mojar School Facebook Page. 20 July 2020. Retrieved 28 July 2020.
  5. 37. Mojar School gave rickshaws to 21 corona-afflicted families (Bangla). Channel I Online. 30 June 2020. Retrieved 28 July 2020.
  6. 38. Ensuring accommodation for a newborn baby and its mother. মজার ইশকুল ::Mojar School Executive Director Arian Arif’s Facebook Timeline. 10 May 2020. Retrieved 28 July 2020.
  7. Coronavirus: How long will it take for the world economy to return to normal after the epidemic? BBC Bangla. 13 May 2020. Retrieved 28 July 2020.

40.100% advance payment of 2000 kg Langra Mango sold out. মজার ইশকুল ::Mojar School Website. 03 June 2020. Retrieved 28 July 2020.  

  1. 8,000 Pieces of Bedana Litchi Sold Out. মজার ইশকুল ::Mojar School Website. 03 June 2020. Retrieved 28 July 2020.
  2. Qurbani 2020. মজার ইশকুল ::Mojar School Website. Retrieved 28 July 2020.
  3. মজার ইশকুল ::Mojar School Website.