২১ টি নতুন রিকশা পেলো করোনায় বিপদ্গ্রস্ত পরিবারগুলো, স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন

Read English Version In Bellow _______________

 

পথশিশু মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মজার ইশকুল একটি অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ২০১৩ সাল থেকে বিগত প্রায় ৮ বছর ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বর্তমানে প্রায় ৪,০০০+ নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবীর সংগঠন মজার ইশকুল। ঢাকা ও মনপুরায় (ভোলা) মজার ইশকুল এর ৮ টি শাখার মধ্যে ৪টি শাখায় (স্থায়ী ইশকুল) জাতীয় শিক্ষাক্রমানুসারে বিনামূল্যে ৭০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাকি ৪টি শাখা খোলা আকশের নিচে পরিচালিত ইশকুল, যেখানে মাসে প্রায় ১,৩০০ এর অধিক শিশুর কাছে পৌঁছাতে পারছে। এছাড়াও আবাসিক সুবিধা সম্বলিত ১টি চিল্ড্রেন্স ভিলেজ নির্মাধীন রয়েছে। 

এই সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতে ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে কাজ করার পাশাপাশি তাদের পড়ালেখা নির্বিঘ্ন করতে ও তাদের পরিবারের স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরী করতে মজার ইশকুল এর RIKSA (Rehabilitation Idea Key for Sustainable Activity) প্রজেক্ট উদ্যোগ। 

 

২০১৭ সালে  RIKSA (Rehabilitation Idea Key for Sustainable Activity) প্রজেক্টের আওতায় ১ম রিকশা হস্তান্তর করা হয় এরপর সর্বমোট ৪টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে ৩টি রিকশা ও ১টি ভ্যান প্রদান করা হয়। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ এর কারণে এই সুবিধাবঞ্চিত দুঃস্থ মানুষের টিকে থাকা আরো কঠিন হয়ে পরেছে। তাই তাদের কর্মহীনতা ও সৃষ্ট বেকারত্বের কথা চিন্তা করে রমজান মাসে যাকাতের টাকায় সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে স্বাবলম্বীকরণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

 

এর ফলস্বরুপ ২৮ জুন ২০২০, রোজ রবিবার ২১টি দুঃস্থ পরিবারকে ২১টি নতুন রিকশা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে মজার ইশকুল। উক্ত রিকশা হস্তান্তর প্রোগ্রামের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব কবির বিন আনোয়ার (সিনিয়র সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।) আরিয়ান আরিফ, (উদ্যোক্তা, মজার ইশকুল) এবং মজার ইশকুল এর স্বেচ্ছাসেবী টিম। 

প্রধান অতিথি, জনাব কবির বিন আনোয়ার (সিনিয়র সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার) প্রোগ্রামে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন আমার মনে হয় যে, আমার ৩১ বছর সরকারী চাকুরীর অভিজ্ঞতায় এর আগে কখনো দেখি নাই কোন তরুণদল ছোট ছোট শিশুদের বিনামূল্যে পড়ায় আবার তাদের বাবাকে রিকশাও কিনে দেয়। আমার মনে হয় এটাই বাংলাদেশের প্রথম যে, এমন একটা ঘটনা ঘটলো আমরা শুধু শিশুদের দিকে খেয়াল করছি তা না তার বাবা-মা কি করবে, কীভাবে থাকবে, খাবে কিংবা শিশুদের কিভাবে মানুষ করবে ভবিষ্যতে পড়াশোনা করাবে তা নিয়ে চিন্তা করছি। এই রিকশা হস্তান্তর প্রোগ্রামে আমি আরিয়ান এবং তার মজার ইশকুল টিমকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, তাদের এই বিরাট মানুষিকতা, সত্যিই অবিশ্বাস্য। তাই আমি এই প্রোগ্রাম মিস করতে চাই নি, আমার কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে চলে এসেছি।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন আপনাদের এই রিকশা কিনে দেওয়া হলো তা বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে আয়োজন করা হয়েছে। তাই আপনাদের দায়িত্ব রিকশাটাকে রিজিকের অবলম্বন হিসেবে পবিত্রজ্ঞান করে এর সদ্বব্যবহার নিশ্চিত করা। কাজ করে টাকা-পয়সা জমানো যাতে আপনাদের ছেলেমেয়েরা ভবিষ্যতে পড়াশোনা করতে পারে।

পুনরায় মজার ইশকুলের সকলকে ধন্যবাদ জানানোর মাধ্যমে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন। 

 

আরিয়ান আরিফ (উদ্যোক্তা, মজার ইশকুল) সংক্ষেপে জানান এই করোনা পরিস্থিতিতে মজার ইশকুল এই দুঃস্থ পরিবারগুলোর পাশে থাকতে পারছে তাই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং একই সাথে সকল ডোনার যারা যাকাতের টাকা এই প্রজেক্টে প্রদান করেছেন তাদের ধন্যবাদ। শুধু প্রদান করেই শেষ নয়, পুরো বছর জুড়ে নিয়মিত মনিটর করা হবে যাতে যাদের রিকশা প্রদান করা হয়েছে তারা রিকশার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে।

 

মোঃ রফিকুল ইসলাম (৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছাঃ রিমা আক্তার ও রিসিপশন শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমানের অভিবাবক) রিকশা পাওয়ার পর জানান তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ভাড়ায় রিকশা চালাচ্ছি। সারাদিন রিকশা চালানোর পর ১৫০-২০০ টাকা মহাজনকে দেওয়া লাগতো। এখন মজার ইশকুল থেকে রিকশা পাওয়ার পর জমা টাকা দেওয়ার চিন্তা নাই। এই টাকা জমিয়ে আমি আর একটা রিকশা কিনে ভাড়ায় চালাতে দিতে পারবো। পরিবারকে নিয়ে আগের চেয়ে ভালো থাকতে পারবো।

 

এই করোনা পরিস্থিতিতে এছাড়াও মজার ইশকুল আরো বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালন করেছে সুবিধাবঞ্চিত পরিবার, পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য। ২৪ মার্চ ২০২০ থেকে ত্রাণ প্রদান কার্যক্রম শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪০০+ পরিবারকে ১ মাসের খাদ্য উপকরণ প্রদান, ৫০,০০০+ পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষকে রান্না করা খাবার প্রদান, ১,০০০ পিস সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ১০,৫০০ পিস সার্জিক্যাল মাস্ক, ৩০টি পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও মজার ইশকুল, ইসাবেলা ফাউন্ডেশন ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাথে যৌথ উদ্যোগে ৪০ জন পথশিশুর শেল্টারে থাকার ব্যবস্থা করেছে। পুরো কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালন করতে অর্ধ-শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী ঝুঁকি নিয়ে ৩০,০০০+ ঘন্টা কাজ করেছে মাঠ পর্যায়ে। 

বাংলাদেশের দুঃস্থ ও দরিদ্র পরিবারগুলোর অবস্থা ও কোভিড-১৯ এর পরবর্তি অবস্থার কথা বিবেচনা করে মজার ইশকুল ১,০০০ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে RIKSA (Rehabilitation Idea Key for Sustainable Activity) প্রজেক্টের আওতায় রিকশা, ভ্যান, সেলাই মেশিন, ট্রাক্টর, ক্ষুদ্র ব্যবসা উপকরণ, গবাদি পশু, হাস-মুরগি পালনের জন্য প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। ২০২০ সালের মধ্যে ১,০০০ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে কোন না কোন কর্মের ব্যবস্থা করে দিয়ে তাদের স্বাবলম্বীকরণ নিশ্চিতে কাজ করছি আমরা। যাতে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে দুঃস্থ ও দরিদ্র মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিতে পারি। 

 

ডোনেশন পাঠানো এখন অনেক সহজ, কোন বিকাশ বা ব্যাংক একাউন্ট মনে রাখার ঝামেলা নেই, নেই স্বচ্ছতা বা মজার ইশকুলের কাছে টাকা পৌছাবে কিনা এটা নিয়ে চিন্তা ।

 

https://bit.ly/Donate_MojarSchool    ( এই লিংক থেকে ২৪ টি মাধ্যমে সরাসরি ডোনেট করা যাবে। ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, ব্যাংক , বিকাশসহ )

https://bit.ly/bKash_MojarSchool  ( এই লিংকে গিয়ে বিকাশের অফিসিয়াল Apps থেকে ডোনেট করা যাবে,  সাথে সাথে মানি রিসিপট )

 

English Version________________________________________________________________________________________

 

21 Corona afflicted families got new rickshaw, dreaming to become self-reliant

Mojar School (An Odommo Bangladesh Foundation Initiative), to build a street child-free Bangladesh, has been working to improve the life of underprivileged children for the last 08 years since 2013. At present, Mojar School has almost 4000+ Volunteers from all over the country. Mojar school is actively running 8 schools. Mojar school connects with at least 2000 children each month through these schools. In 04 permanent schools situated in Dhaka and Monpura (Bhola), 700 underprivileged children are studying for free of cost by following the national curriculum of Bangladesh. Another 1300 children are regularly connecting with mojar School through 04 Under the Sky: Mojar School in Dhaka. Besides that, A residential children village is also under construction.
To ensure equality education and other basic needs of these underprivileged children, Mojar School designed RIKSA (Rehabilitation Idea Key for Sustainable Activity) project to permanently rehabilitate the families of Mojar School’s students.
To test the project’s sustainability, we started an experimental RIKSA (Rehabilitation Idea Key for Sustainable Activity) project in June 2017. We already gave 03 Rickshaw and 01 Van to 04 families of Mojar School’s student in the last 03 years. The Corona Virus (Covid-19) situation in 2020 has brought a grim reality for these underprivileged families. They do not have any job and living in unemployment from the beginning of this pandemic. As a result of the post-Corona economic downturn, their chances of finding a new job are slim. After seeing this situation, Mojar School took the initiative to help these underprivileged families to be permanently self-reliant in this Ramadan with Zakat.
On 28 June 2020 (Sunday), Mojar School handed over 21 brand new rickshaw to 21 underprivileged families. In this Rickshaw Handover Program, the chief guest was Mr. Kabir Bin Anowar (Senior Secretary, Ministry of Water Resources, Government of the People’s Republic of Bangladesh). Arian Arif (Entrepreneur, Mojar School) and Volunteer team of Mojar School was also presented in this program.

Chief guest, Mr. Kabir Bin Anowar (Senior Secretary, Ministry of Water Resources, Government of the People’s Republic of Bangladesh) said in his brief speech to all, “I think in my 31 years of government service experience, I have never seen a group of youngsters who are not only educating underprivileged children but also buying their parents rickshaw. I think this is the first incident in Bangladesh that we are not only looking after the children but also thinking about what their parents will do, how they will live, or how they will educate their children in the future. In this Rickshaw Handover Program, I sincerely thank Arian and his Mojar School team for their enormous humanity. It’s truly incredible. As I didn’t want to miss this program, I came here by managing my busy schedule.”
Addressing the parents, he also said, “This rickshaw was bought for you and it has been organized by collecting money in various ways. Now it is your responsibility to use it properly so that it can be an agency of your Rizik. Save money by working hard so that your children can study in the future.”
He ended his speech by thanking everyone in Mojar School again.
Arian Arif (Entrepreneur, Mojar School) said, “In this Corona situation, Mojar School has been able to support these underprivileged families. So I want to thank the Creator. I also thank all the donors who donated Zakat money for this project. Our responsibility is not ending by handing over rickshaw, we are going to monitor the whole project so that the beneficiaries can utilize this rickshaw.”

After receiving Rickshaw, Md. Rafiqul Islam (a guardian of Mojar school’s student of class five Mosa. Rima Akter and student of reception Habibur Rahman) said, “I am driving rickshaw for 10 years now. After driving a rickshaw all day, I had to pay tk 150-200 to the rickshaw owner daily. Now I got this rickshaw from MOjar School. I don’t have to worry about giving money to the rickshaw owner daily anymore. Despite, by depositing that money I can buy another rickshaw and rent it. I will be able to live a much better life with my family.”
In this Corona situation, Mojar School conducted various activities for underprivileged people. Since 24 March 2020, Mojar School has provided food items to 1400+ underprivileged families for a month, fed 01 cooked meal 50000+ street children and underprivileged people daily. They also distributed 1000 pieces of soap/hand sanitizer, 10,500 pieces of a surgical mask, and 30 PPE. In the meanwhile, in a joint venture with Isabella Foundation and South City Corporation, Mojar School has accommodated 40 Street Children in a Shelter home. More than 50 volunteers worked 30,000+ hours in the field to successfully run all these programs despite having life risk due to COVID-19.

Considering the terrible the situation of the underprivileged family after Covid-19 pandemic and upcoming economical-downturn, Mojar School initiated RIKSA (Rehabilitation Idea Key for Sustainable Activity) project is an initiative to rehabilitate 1000 underprivileged families by giving rickshaws, vans, sewing machines, tea shops, cows and goats, poultry, jhalmuri stalls, tractors, and small business equipment. We want to Provide earning equipment to 1000 underprivileged families so that they can be self-reliant by 2020. We want to reach out to underprivileged people on a larger scale in the future.

Donating to Mojar School is now easier than ever. No hassle of remembering a bKash or bank account, no transparency issue, or worrying about whether the money will reach Mojar school.

https://bit.ly/Donate_MojarSchool

(This link can be used to donate directly through 24 channels. Credit card, debit card, bank, including bKash)

https://bit.ly/bKash_MojarSchool

( Donate from bKash Official Apps by going to this link, along with Money Receipt)