ফেসবুক ( Facebook ) ভেরিফাইড করল “মজার ইশকুল” এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হল ফেসবুক। প্রায় অধিকাংশ বিখ্যাত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্রান্ডের রয়েছে নিজস্ব ফেসবুক পেজ যার মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম সকলের সাথে শেয়ার করে থাকেন। কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের সঠিক ফেসবুক পেজটি খুঁজে পাওয়ার সুবিধার্থে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ চালু করেন “ফেসবুক ভেরিফিকেশন” ফিচার। জনপ্রিয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক পেজের ভীড়ে তাদের নিজস্ব পেজটি খুঁজে পেতে দারুণভাবে সহায়তা করে “ফেসবুক ভেরিফিকেশন” এর সাদা-নীল টিক চিহ্ন। ফেসবুক পেজসমূহ নির্ধারিত কিছু মানদন্ড অনুসরণ করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা পেজ পর্যবেক্ষণ করে ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করে থাকেন। মজার ইশকুল অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটির পাশেও এখন খুঁজে পাওয়া যাবে ভেরিফিকেশনের সাদা-নীল টিক চিহ্ন। ২০১৩ সাল থেকে এই পেজটি মজার ইশকুল এর স্বেচ্ছাসেবী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বেঁধে রেখেছে একসূত্রে যা এখন প্রায় ৮৬,০০০ এর মত একটি বিশাল সংখ্যায় যেয়ে পৌঁছেছে।
মজার ইশকুল একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক সংগঠন যা ২০১৩ সাল থেকেই পথশিশুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
বর্তমানে মজার ইশকুল নিয়মিতভাবে ২০০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর সাথে যুক্ত থাকে যার মধ্যে ৭০০ জন শিশু মজার ইশকুল এর ০৪ টি স্থায়ী ইশকুলে জাতীয় শিক্ষা ক্রমানুসারে শিক্ষা গ্রহণ করছে। খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত মজার ইশকুল এ নিয়মিতভাবে প্রায় ১৩০০ পথশিশুর বন্ধু হয়ে থাকে মজার ইশকুল এর স্বেচ্ছাসেবী টীম। এর পাশাপাশি স্থায়ী ইশকুল এর শিক্ষার্থীদের বাবা-মা এর আয়ের উৎস তৈরি, স্যোশাল এন্টারপ্রাইজ পরিচালনা এবং পথশিশুদের স্থায়ী আবাসনের জন্য অদম্য বাংলাদেশ ভিলেজ তৈরির কাজও মজার ইশকুল করে থাকে। মজার ইশকুল এর এই সকল কার্যক্রমের আপডেট প্রতিনিয়ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট পৌঁছে দিচ্ছে মজার ইশকুল অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ।
২০১৩ সালে শাহবাগ এর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৩ জন শিশুকে নিয়ে যাত্রা শুরু করা মজার ইশকুল ২০২০ সালে মোট ০৮ টি ইশকুল পরিচালনা করে। খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ০৪ টি ইশকুল অবস্থিত রাজধানী ঢাকার শাহবাগ, কমলাপুর, সদরঘাট এবং ধানমন্ডি এলাকায়। স্বেচ্ছাসেবীদের দ্বারা পরিচালিত এই ০৪ টি ইশকুলের মূল উদ্দেশ্য থাকে শিশুদের বন্ধু হওয়া। খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ইশকুল এর তথ্যের উপরে ভিত্তি করে ২০১৪ সালে ঢাকার আগারগাঁও এ এবং ২০১৭ সালে মানিকনগর এ শুরু হয় মজার ইশকুল এর যাত্রা। মজার ইশকুল ২০১৯ সালে ঢাকার বাইরে বরিশাল বিভাগে দুটি স্থায়ী ইশকুল এর কার্যক্রম শুরু করে। ঢাকায় আগত পথশিশুদের ১৭% বরিশাল বিভাগের হওয়ায় ইশকুল কার্যক্রম শুরুর জন্য এ বিভাগ বেছে নেয় মজার ইশকুল । এছাড়া, ২০২০ সালে পথশিশুদের স্থায়ী আবাসনের জন্য অদম্য বাংলাদেশ ভিলেজ তৈরির কাজও শুরু করে মজার ইশকুল।
 
২০২০ এর শুরু থেকেই সারাবিশ্ব কোভিড-১৯ নামে এক মহামারীতে আক্রান্ত হয়। সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশেও করোনা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২৬ মার্চ ২০২০ থেকে শুরু হয় সারাদেশে লকডাউন। থমকে যায় সাধারণ জনজীবন। সবার মত মজার ইশকুল এর নিয়মিত কার্যক্রমও বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু মজার ইশকুল পথচলার শুরু থেকেই পথশিশুদের পাশে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করে চলেছে। বর্তমান এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও চেষ্টা করছে সমাজের এই সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণীর পাশে থাকতে। করোনা ভাইরাসের আক্রমণের প্রথম থেকে চলমান পর্যন্ত ঢাকার ০৫টি পয়েন্টে (কমলাপুর, সদরঘাট, হাইকোর্ট/গুলিস্তান, আগারগাঁও ও মানিকনগর) প্রতিদিন নিশ্চিত করেছি একবেলা রান্না করা খাবার। বিগত ৬৪ দিনে এই ০৫টি পয়েন্টের মোট ৪০,০০০ জন এর অধিক লোকের কাছে একবেলা রান্না করা খাবার পৌঁছে দিয়েছে মজার ইশকুল টীম। পাশাপাশি ১৪০০ পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে একমাসের খাদ্যসামগ্রী।
এছাড়াও, স্থায়ী ইশকুল এর শিক্ষার্থীদের বাবা-মা এর আয়ের উৎস তৈরির জন্য ‘RIKSA’ প্রজেক্ট নিয়েও কাজ করছে এই পরিস্থিতিতে।
 
 
মজার ইশকুল পথশিশুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছে। ২০১৩-২০২০ সাল এর মধ্যে প্রাইমারি স্কুল পর্যায় সম্পন্ন করা, ২০২১-২০২৩ সাল এর মধ্যে মাধ্যমিক স্কুল এবং কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করা, ২০২৪-২০২৬ সালে মাধ্যমিক পর্যায় সম্পন্ন করা, ২০২৭-২০২৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় সম্পন্ন করা। ২০৩২ সাল নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পন্ন করা এবং ২০৩৩ সালে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত করতে চায় মজার ইশকুল।