#ViolenceAgainstChildren

শিশুদের প্রতি হওয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে

খাদ্য-শিক্ষা-চিকিৎসা-প্রযুক্তি স্লোগানে মজার ইশকুল ২০১৩ সাল থেকে দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে, তাদের অধিকারগুলো রক্ষা করতে কাজ করে যাচ্ছে। পথে বসবাস করা এ সকল শিশুদের মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত, প্রায়ই পত্রপত্রিকায় আমরা এসব শিশুদের প্রতি সহিংসতার খবর দেখতে পাই। মজার ইশকুল পথশিশুদের জন্য একটি সুস্থ সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের বিরুদ্ধে হওয়া সকল সহিংসতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের ওপেন ইশকুল বা স্থায়ী ইশকুলের কোন ক্লাসেই আমরা শিশুদের গায়ে হাত তোলাকে একেবারেই সমর্থন করি না। বকা দিয়ে বা শাসন করে নয় বরং আদরের সাথে বুঝিয়ে, আস্থা ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা শিশুদের শিখিয়ে থাকি।
খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত মজার ইশকুলগুলোর আরেকটা লক্ষণীয় ব্যাপার যেটা সব স্বেচ্ছাসেবীরা বিশেষভাবে মেনে থাকেন সেটি হলো আমরা শিশুদের কখনোই ‘তুই’ করে বলি না। চারপাশের সবার অবহেলা পেয়ে বেড়ে উঠা এই শিশুদের কাছে ‘তুই’ শব্দটি এক প্রকার গালির মতই শুনায়। শুধুমাত্র  ‘তুমি’ করে সম্বোধনের কারণেই শিশুদের সাথে মজার ইশকুলের আপু বা ভাইয়াদের প্রথম সাক্ষাতেই বেশ আস্থার একটা সম্পর্ক গড়ে উঠে।

শুধু নিজেদের মাঝেই এই চর্চাগুলো আমরা সীমাবদ্ধ রাখি না। সাধারণ মানুষের মাঝেও পথশিশুদের প্রতি হওয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে আমরা পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ১৯শে জুলাই ২০১৯ মজার ইশকুল ঢাকার ৩টি পয়েন্ট – কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, শাহবাগ এবং ধানমন্ডি লেকে জনসাধারণের জন্য একটি পাবলিক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছিল, যেখানে কিছু ইতিবাচক ভাবনা আমরা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি –

•আমরা কখনোই শিশুদের তুই করে বলব না।
•আমরা কখনোই ওদের গায়ে হাত তুলব না।
•আমরা পথশিশুদের সাথে ভালো ব্যবহার করব।

মজার ইশকুলে আমাদের কাজ পুরোটাই পথশিশুদের নিয়ে। তবে তাদের ব্যাপারগুলো নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমরা সাধারণ মানুষদের সাথেও কাজ করতে চাই। এ ক্যাম্পেইনের মত জনসচেতনতামূলক আয়োজনগুলো আমরা নিয়মিতভাবেই করব যাতে করে পথশিশুদের প্রতি জনমনে যে বিরূপ মনোভাবটুকু আছে সেটুকু কাটিয়ে তাদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা যায়।

বলা হয়, শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। একটি শিশুও যদি বেড়ে উঠার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ না পায় তবে তাদের জন্য সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার। শিশুদের প্রতি হওয়া সহিংস আচরণগুলোর বিরুদ্ধে আমরা সকলেরই নিজ নিজ জায়গা থেকে সোচ্চার হওয়া উচিত। মজার ইশকুল নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত সকল শিশুর সুস্থ স্বাভাবিক বেড়ে উঠার স্বার্থে একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে।