#StopChildMarrige

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে

বাল্যবিবাহ বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫৯% শিশুর ১৮ বছরের আগে এবং ২২% শিশুর ১৫ বছরের আগে বিয়ে হয়ে যায়। যার ফলস্বরূপ তাদের মানসিক পরিপক্বতার আগেই যেমন তাদের সংসারের মত কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়, তেমনি শারীরিক পরিপক্বতার আগেই তাকে সন্তান জন্মদানের মত জটিল শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও অতিক্রম করতে হয়। যা অনাগত সন্তান এবং মা, উভয়ের জন্যই ভয়ানক ক্ষতিকর।

বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়নের যুগে যেখানে প্রতিটি মেয়েশিশু যাতে সুশিক্ষা পায় সেটা নিশ্চিত করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়ে সেখানে বাল্যবিবাহ একটি বিশাল অন্তরায়। আর তাই মজার ইশকুল নিয়মিতভাবে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। মজার ইশকুলের স্থায়ী স্কুলগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৫৩% মেয়ে শিশু শিক্ষা গ্রহণ করছে। এখানে আমরা সাপ্তাহিকভাবে, মাসিকভাবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর শিক্ষক-অভিভাবক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে থাকি। এই অভিভাবক সমাবেশগুলোতে বিশেষভাবে বাল্যবিবাহের কুফল, সন্তান বয়ঃসন্ধিকাল পার করছে এমন পিতা-মাতার করণীয় কী সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। যার ফলে বাল্যবিবাহের হার যেমন কমানো সম্ভব হচ্ছে পাশাপাশি নারী শিক্ষার হার বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে এবং বয়ঃসন্ধিকালে কী কী শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো হতে পারে সে বিষয়ে তাদেরকে আগে থেকেই সচেতন করা যাচ্ছে।

এছাড়াও যদি কোন শিশুকে তার অভিভাবক জোর করে বিয়ে দিতে চায় তাহলে মজার ইশকুল এর সিনিয়র শিক্ষক এবং এডুকেশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার সরাসরি শিশুটির বাসা পরিদর্শন করে তার পরিবারের সাথে কথা বলে থাকেন। ‌


এ প্রসঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই আমাদের এক শিক্ষার্থীকে বাল্যবিবাহের হাত থেকে কীভাবে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে সে গল্প তুলে ধরা যায়। লামিয়া নামের এ শিক্ষার্থী আমাদের আগারগাঁও স্কুল থেকে এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেবে। সে বেড়ে উঠেছে আগারগাঁও কুমিল্লা বস্তির অসচেতন ও শিক্ষাহীন মানুষের মধ্যে, যেখানে মেয়েদের ১২ বছর পার হলেই বিয়ে দিয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায় শিশুর মা-বাবাসহ আশেপাশের সকলের। তেমনটি হয়েছে লামিয়ার ক্ষেত্রেও। বয়ঃসন্ধিকালের স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলোও যেনো অস্বাভাবিক লাগতে শুরু করেছিল তার বাবা-মায়ের। আর এর সমাধান হিসেবে লামিয়ার বিয়ে দেওয়াটাই একমাত্র পথ মনে হয়েছে তার পরিবারের। এমন কি ফেব্রুয়ারি ২০২০ মাসে তাকে বিয়ের জন্য গ্রামে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়ে গিয়েছিলো গোপনে।

মজার ইশকুল এমন অবস্থায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করে কোন শিক্ষার্থীকে অন্তত ৫ম শ্রেণি পাশ করার পূর্বে যাতে বাল্যবিবাহের শিকার বা শিশুশ্রমে যুক্ত হতে না হয়। লামিয়ার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি, তার কাছে সকল বিষয় জানার পর ১ সপ্তাহের মধ্যে ৩ বার সিনিয়র শিক্ষক বাসা ভিজিটে যান। ১০ এর অধিকবার ফোনকলে লামিয়ার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়। শিক্ষকগণ ফোনে এবং বাসা ভিজিট থেকে তথ্য সংগ্রহ করার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখ প্রোগ্রাম ম্যানেজার (এডুকেশন) লামিয়ার পরিবারের সাথে সরাসরি প্রায় ২ ঘণ্টার অধিক সময় ধরে কথা বলেন। বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তন ও এ সময় করণীয় বিষয় এবং ১৮ বছরের আগে লামিয়ের বিয়ে দেওয়ার কুফল নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। যেহেতু লামিয়ার মাও বাল্যবিবাহের শিকার তাই তিনি পুরোপুরিভাবে বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হয়েছেন এবং এখন তিনি ইশকুলের উপর ভরসা রেখে ১৮ বছরের আগ পর্যন্ত মেয়েকে পড়ালেখা করাতে চান।

লামিয়ার মত এরকম আরো অনেক মেয়ে শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে মজার ইশকুল কাজ করে যাচ্ছে নিরন্তর, লড়ে যাচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতার বিপক্ষে।