Return Of Investment

ROI (Return on Investment)

প্রতিটি শিশুর মাঝেই রয়েছে অনেক বেশি সম্ভাবনা। পথশিশুদের মাঝেও লুকিয়ে থাকা এই অমিত সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর এবং প্রতিটি ভাসমান শিশুকে সম্পদে পরিণত করার চেষ্টা করছে মজার ইশকুল।

মজার ইশকুল এর খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ইশকুলগুলোর কার্যক্রমের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবীরা এই পথশিশুদের বন্ধু হয়, জানতে পারে শিশুদের জীবনের অন্ধকারদিকগুলো। মজার ইশকুল এর ভাইয়া আপুদের সাথে গড়ে উঠা এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোর কারণে শিশুরা মেন্টাল সাপোর্ট পাচ্ছে এবং অনেক শিশুই মাদকাসক্তি, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে ফিরে আসছে।

আমাদের স্থায়ী স্কুলগুলোতে নিয়মিত সকালে নিউট্রিশন প্রোগ্রাম এবং দুপুরে ফুড প্রোগ্রামের মাধ্যমে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত হচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা প্রতি ক্লাস শেষে নিশ্চিত করি পুষ্টিকর খাবার। মজার ইশকুল শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি দিচ্ছে কারিগরি জ্ঞান লাভের সুযোগ, ফলে তারা দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হচ্ছে।

এছাড়া শিশুদেরকে প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। শিশুরা প্রযুক্তির ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে, ফলে এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্ন দেখানো এবং তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে মজার ইশকুল, যেন তারাও দেশকে বড় কিছু উপহার দিতে পারে।

এ তো গেলো শিশুদের নিয়ে আমাদের কাজের কথা। আমাদের সাথে কাজ করার জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত হন, তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতাগুলোর উন্নয়ন ঘটিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করার জন্য তাদের পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত করা হয়।

মজার ইশকুল এর সাথে কাজ করার মাধ্যমে একজন স্বেচ্ছাসেবী শিখতে পারে একটি নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের কাজ কীভাবে করতে হয়, কত দ্রুত তা শেষ করা যায় এবং কাজের নির্দিষ্ট ডেডলাইন কীভাবে মেনে চলতে হয়।

মজার ইশকুল যেহেতু টিম হয়ে কাজ করে তাই টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কীভাবে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, তাও শেখা যায়। এছাড়া নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে ভালোভাবে জানা যায়। কী করে বিভিন্ন পদের মানুষের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে হয়, সে সম্পর্কেও ভালো ধারণা পাওয়া যায়।

মজার ইশকুলের সাথে যুক্ত একজন স্বেচ্ছাসেবী এক পর্যায়ে গিয়ে সমন্বয়কারী হিসেবে পয়েন্ট পরিচালনার দায়িত্ব পান। যেখানে টিম মেম্বারদের কাজ বণ্টন, ক্লাস পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব, টিম মেম্বারদের উদ্বুদ্ধকরণ এই কাজগুলো করার মধ্য দিয়েই নেতৃত্বের গুণটির চর্চা হয়ে যায়।

আবার একজন স্বেচ্ছাসেবী যখন সমন্বয়কারী থেকে মেন্টরের দায়িত্বে যান, দক্ষ ব্যবস্থাপনা জ্ঞান তিনি অর্জন করেন বিভিন্ন কাজে স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্ব নিতে বলা, তাদের মাঝে নেতৃত্বদানের স্বভাব তৈরি করা, সবার প্রতি সহায়ক আচরণ এবং প্রত্যেকের অবদানের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে।

মজার ইশকুলে নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবীদের জন্য প্রতি মাসে তার কাজের বিবরণী উল্লেখ করে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে হয়। যা একজন স্বেচ্ছাসেবীকে নিজের কাজ উপস্থাপনের সাথে সাথে কম্পিউটারে কাজে দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করে।

একজন স্বেচ্ছাসেবীর অভিজ্ঞতা যদি তুলে ধরা যায় “মজার ইশকুলে কাজ করার মাধ্যমে আমি নিজেকে সক্রিয়, কর্মঠ এবং কার্যকর হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছি, যার ফলে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছি। অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মাধ্যমে আমি নিজের ভালোলাগা, মূল্যবোধ, কর্ম দক্ষতা, পারদর্শিতা, দুর্বলতা ও ভুলগুলো সম্পর্কে অবগত হতে পারছি”।

এভাবে শিশুদের নিয়ে আমাদের কাজ, এবং সেই সাথে যাদের মাধ্যমে এই শিশুদের নিয়ে আমরা কাজ করছি অর্থাৎ তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে আমাদের কাজগুলোর ফলাফলই আমাদের এটা নিশ্চিত করে যে এগুলোতে আমাদের ইনভেস্টমেন্ট বা ইনভলভমেন্ট যেটাই বলি না কেন, তার বিনিময়ে উল্লেখযোগ্য একটা প্রতিদান অবশ্যই বাংলাদেশকে আমরা দিয়ে যেতে পারব। মজার ইশকুলে ব্যয়িত সময় ও শক্তির বিনিময়ে একজন স্বেচ্ছাসেবী শুধু যোগ্যতা সম্পন্নই হয়ে ওঠবে না বরং হবে বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ। সেই সাথে দেশের একটি সামাজিক সমস্যারও হবে সমাধান।