Loving School

ভালোবাসার মজার ইশকুল

শিশুরা মজার ইশকুলে কেন আসে? উত্তর একদম সোজা, শিশুরা মজার ইশকুলকে ভালবাসে। শিশুদের মনে সেই আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা করে নিয়েছে মজার ইশকুল। এর প্রভাবও আমরা দেখতে পারি মজার ইশকুল এর স্থায়ী ও খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ইশকুলগুলোতে।

মজার ইশকুলের শিশুদের নিয়ে ক্লাস কার্যক্রমের শুরু ২০১৩ সাল থেকে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমাদের স্থায়ী স্কুলগুলোর ক্লাসে শিশুদের উপস্থিতি হার দেখলেই বুঝা যায় শিশুদের কাছে মজার ইশকুল কীরকম ভূমিকা পালন করে। কারণ বিগত এই বছরগুলোতে শিশুদের উপস্থিতির হার ক্রমশ বেড়েছে। উপস্থিতির এই হারের ভিত্তিতে শিশুদের প্রতি বছরশেষে প্রদান করা হয় গোল্ড ও সিলভার।

মজার ইশকুল এর স্থায়ী স্কুল ৪টা। তন্মধ্যে ঢাকার মানিকনগর ও আগারগাঁও এ দুইটি এবং মনপুরার মতো দুর্গম চত্বরে, যেখানে শিক্ষার আলো এখনো ঠিকভাবে পৌঁছাতে পারেনি, যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থার কোন চিহ্ন নেই সেখানে আমাদের মনপুরা-১ ও মনপুরা-২, এ দুটি স্কুল আছে। এই স্কুলগুলো পরিচালিত হয় কিন্তু দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা দ্বারাই। ঢাকার অগণিত নাগরিক সুযোগ-সুবিধাকে পিছনে ফেলেই এই শিক্ষকদের অনেকে মনপুরার মতো দুর্গম চরে গিয়েও ক্লাস নিচ্ছে শিশুদের প্রতি, এবং অবশ্যই ইশকুলের প্রতি তাদের ভালোবাসার টানে।

খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ইশকুলেও মজার ইশকুল এর প্রতি শিশুদের ভালোবাসার বেশ ভালো দৃষ্টান্ত দেখা যায়। এই ক্লাসগুলোতে শিশুরা আসে কেবল মজার ইশকুল এবং লাল টি-শার্ট পরা তাদের প্রিয় ভাইয়া-আপুদের টানে। শিশুরা তাদের ভাইয়া আপুদের সাথে কিছু আনন্দের মুহুর্ত কাটাতেই আসে। ক্লাস শুরু হওয়ার আগে কোন পয়েন্টে লাল টি-শার্ট পড়া ভাইয়া আপুদের দূর থেকে দেখলেই শিশুরা ছুটে এগিয়ে আসে তাদের প্রিয় ভাইয়া আপুর কাছে।

মজার ইশকুলগুলোতে আমরা শিশুদের জন্য ভালোবাসাপূর্ণ একটা পরিবেশ গড়ে তুলতে পেরেছি৷ শিশুদের বকাঝকার করার মাধ্যমে নয় বরং আদরের সাহায্যে বুঝিয়ে শেখানোতেই আমরা বিশ্বাস করি। বছরব্যাপী ক্লাসকার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে শিশুদের ভালো লাগা, পছন্দের জিনিস বা ইচ্ছেগুলোকেও গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করা হয়, যা ইশকুলের প্রতি শিশুদের ভালোবাসা আরও বাড়িয়ে দেয়।