#মজার_ইশকুল #মজার_স্কুল #Mojar_School #MojarSchoolForStreetChildren #child_sponsorship_organizations #sponsor_child_education #sponsor_a_child_in_need #sponsor_an_orphan #Mojar_School_Sponsor_a_Child #Under_Priviliged_Children_Dhaka_Bangladesh #সুবিধাবঞ্চিত_শিশুদের_জন্য_মজার_ইশকুল Jhuma Added Something New

” গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা শরীফুলের জীবনযুদ্ধের গল্প “

 
 
নামঃ শরীফুল ইসলাম
ডাক নামঃ শরিফ
বয়সঃ ১১
বাবার নামঃ মৃত নুর নবী
মায়ের নামঃ জরিনা বেগম
বর্তমান ঠিকানাঃ সদরঘাট
স্থায়ী ঠিকানাঃ নোয়াখালী ( গ্রামের নাম শরীফুলের মনে নাই)
 
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ নেই
জীবনের গল্প সংগ্রহের তারিখ- সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯
 
শরীফ যখন একদম ছোট তখন তার বাবা ব্রেনস্ট্রোক করে মারা যায়। শরিফ,তার মা এবং তিন বোন চাঁদপুর থাকতো। শরিফের বড় মামা বিদেশ থাকে। তিনি প্রতি মাসে টাকা পাঠায় সেই টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলে। এক বোনের বিয়ে হয়ে গেছে বাকি দুইবোন এখনও স্কুলে পড়ে। গ্রামের কোনো এক স্কুলে শরীফ ভর্তি হলেও ক্লাসে যাওয়া হয় নেই একদিনও।
 
গ্রাম তার ভালো লাগে না। গ্রাম নিয়ে নানা অভিযোগ তার মনে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ গ্রামের ছেলে মেয়ে তাকে ধরে অনেক মারে সাথে তার পরিবার ও তাকে মারধর করে। শুধু মাত্র মারের ভয়ে সে ঠিক করে গ্রাম থেকে দূরে চলে যাবে। ঠিক করে বন্ধুর বাবার সাথে শরীফ চিটাগাং চলে যাবে সেখানে কাজ করবে। রাতে বন্ধুর বাবার সাথে চিটাগাং যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও সকালে বন্ধুর বাবাকে আর ট্রেনে খুঁজে পায় না। ট্রেন থেকে নেমে কিছুক্ষণ হাঁটার পর কোনো এক ভদ্রলোকের মাধ্যমে জানতে পারে এটা ঢাকা এয়ারপোর্ট।
 
কিন্তু শরিফের মনে কোনো ভয় নেই। সে খুশি কারন তার গ্রাম থেকে তো সে দূরে আছে। সেদিনই শরীফ আবার ট্রেনে করে নোয়াখালী চলে যায় কিন্তু তার নিজ গ্রামে না যেয়ে সেখান থেকে আবার শরীফ ঢাকা চলে আসে।
 
এরপরই শরীফের বর্তমান ঠিকানা হয় সদরঘাট। সাব সেন্টারে শরীফ থাকলেও শরীফ এখন উড়ন্ত পাখি কেননা যখন যেখানে মন চাই সেখানে সে চলে যায়। কোনো বাধা নিষেধ নাই শরীফের জীবনে।আমার মতে গ্রাম থেকে চলে আসার কারন এটাই ছিলো। খাওয়া দাওয়া, পড়াশুনা সাব সেন্টারে করে কিন্তু শুক্রবার, শনিবার যখন সাব সেন্টার বন্ধ থাকে তখন ঘাটে এসে বিভিন্ন লোকজনের কাছে খাবারের জন্য আবদার করে। প্রত্যেক শনিবার শরীফকে দুপুরে খাইছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে একই উত্তর দেই ” এক লোক আমারে টাকা দিছে সাথে ডাল আর আলুর গোল ( আলু ভর্তা) ভাত খাওয়াইছে “।
 
 
মজার ইশকুলের সাথে শরীফের পরিচয় মূলত আনন্দ উৎসব, ২০১৯ সিজন-০৬ দিয়ে। এখন শরীফ আমাদের মজার ইশকুলঃসদরঘাট এর নিয়মিত শিশু। তার মতে এখানের আপু ভাইয়ারা অনেক ভালো, সবাই তাকে অনেক আদর করে এজন্য শনিবার সবার আগে সে চলে আসে।
শরীফকে গ্রামে চলে যাওয়ার কথা বললে বলে ” আফা, গ্রাম ভালো না। মারে সবাই আমাকে। এরথেকে ঢাকা অনেক ভালো, কেউ আমাকে মারে না উল্টা আমি মারি। মা’র কথা বেশি মনে পরলে গ্রামে যেয়ে দেখা করে চলে আসি আর অল্প মনে পরলে মা’র নাম্বার মুখস্থ আছে। কারোর ফোন দিয়ে কথা বলি “।
নতুন জায়গায় এসে শরীফ নতুন একটা বন্ধু পেয়েছে। বন্ধুর নাম জানতে চাইলে বলে ” নাম তো ভুলি গেছি। আছে না একটা ছোট ছেলে, অনেক শয়তান। ও আমার বন্ধু”
 
অনেকক্ষণ পর মনে করতে পারে তার বন্ধুর নাম হলো ইমন। শরীফের বাতাস অনেক পছন্দ যার জন্য সে সেন্টারে ঘুমাই না। রাত হলেই ঘাটে চলে আসে। খোলা আকাশে যেখানে বাতাস বেশি সেখানে শুয়ে পরে।
 
বাংলা ছবি ভালো লাগে না কিন্তু অপু বিশ্বাস কে অনেক ভালো লাগে। হিন্দি ছবি ভালো লাগে। পছন্দের নায়ক শাহরুখ খান কারন তার ছবি অনেক হিট হয়।
 
শরীফের সব রং পছন্দ। আর ঘুরাঘুরি তো বেশ পছন্দ। ঢাকার কোথাও ঘুরতে না পারলেও সুযোগ পেলে চাঁদপুর আর বরিশাল চলে যায়। চাঁদপুর আর বরিশালের ইলিশ মাছ খাইতে অনেক মজা তাই সেখানে যাইয়ে ঘুরাঘুরি করে ইলিশ মাছ দিয়ে পেট ভরে ভাত খেয়ে চলে আসে। শরীফের সাথে গল্প করার সময় পাশে অপু ভাইয়া বসে ছিলো। অপু ভাইয়ার সাথে শরীফের গল্প শুরু হয় বরিশাল কোথায় কোথায় ঘুরেছে সেটা নিয়ে।
 
শরীফকে জিজ্ঞেস করলাম ঘুরাঘুরির জন্য টাকা লাগে কিনা। শরীফ বলে ” অল্প লাগে টাহা। মাঝেমধ্যে ঘাটে লোকদের কাছে টাকা চাই। যে টাকা হয় তাতে আফা ঘুরা হয়ে যায়”। শরীফ সুন্দর করে অনেক কবিতা বলতে পারে।
 
শরীফের সাথে ৩০ মিনিটে গল্প করে এত কিছু জানবো ভাবতে পারিনি। কিন্তু শরীফের শেষের উক্তিটি খুবই কষ্টদায়ক ছিলো। সেটা হলো ” আফা আমার কেউই বাইচে নাই। আমার নানা,দাদা-দাদি, খালা, বাবা সবাই মইরা গেছে। আমি, আমার মা আর বোন গুলো বাইচে আছে। দেইখেন তারা ও একদিন মইরা যাবে “
– লিমা
মজার ইশকুল সদরঘাট পয়েন্টের নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবী
[ Disclaimer: এখানে মজার ইশকুলের বা স্বেচ্ছাসেবীর কোন বক্তব্য নেই, শিক্ষার্থীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সত্য – মিথ্যা যাচাই করার কোন চেষ্টা মজার ইশকুল করেনি কারন মজার ইশকুল বিশ্বাস করে শিশুদের জীবনের গল্প শোনার তেমন কেউ নেই, সেহেতু আমরা তার কথাই মনোযোগ দিয়ে শুনি । ]
— — — —সপ্তাহে শনি, সোম,মংগল বা বৃহস্পতিবার যে কোন একদিন যদি বিকাল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত ফ্রি থাকেন, তাহলে খুব সহজেই নিয়মিত #স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন মজার ইশকুল এর সাথে ।

#Be_Hero’s For Street Child and Apply Online for Regular Volunteer:
http://bit.ly/MojarSchoolVolunteer

গুগল ম্যাপে আমাদের অফিস – – https://goo.gl/maps/vwAGppxfDPo

প্রতি শনিবার – মজার ইশকুলঃ সদরঘাট
প্রতি সোমবার – মজার ইশকুলঃ শাহবাগ
প্রতি মঙ্গলবার – মজার ইশকুলঃ ধানমন্ডি
প্রতি বৃহস্পতিবার – মজার ইশকুলঃ কমলাপুর

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •