Street children in Bangladesh, পথশিশু বাংলাদেশ , টোকাই , মজার ইশকুল , মজার স্কুল , Mojar School

Mojar School Anondo Utsob 2019, Season 6

বছর ঘুরে আবার পালিত হল মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসব ২০১৮, সিজন – ০৫ যা অনুষ্ঠিত হয় গত ১৩ অক্টোবর ২০১৮ রোজঃ শনিবার ঢাকা লেডিস ক্লাবে। রাজধানী ঢাকার ৬টি পয়েন্ট ও ৩টি বিভাগীয় শহরের প্রায় ৫ শতাধীক শিশুর অংশগ্রহণে মজার ইশকুলের আনন্দ উৎসব ছিলো মুখর।

আনন্দ উৎসব এ শিশুদের জন্য পোলাও, গরু মাংস, মিষ্টান্ন খাবারের পাশাপাশি, বিনোদনের জন্য শিশুদের পরিবেশনা থাকছে শুরু থেকে। এর সাথে মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসব ২০১৮, সিজন – ০৩ থেকে শিশুদের জন্য চমক বেড়ে যায় ১২৩ সিসিমপুর এর প্রধান ও প্রিয় চরিত্র হালুম, ইকড়ি, টুকটুকি ও শিকু স্টেজ শো যুক্ত হওয়ায়। মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসব ২০১৮, সিজন – ০৫ এর ব্যাতিক্রম ছিলো না বরং তার সাথে যুক্ত হয়েছে শিশুদের আরো এক নতুন আকর্ষণ। প্রতিটি শিশুর মাথায় পরিধানের জন্য ছিলো কাগজের তৈরী মুকুট। যা পড়ে সকল শিশু রাজার মত উৎসব এ অংশগ্রহণ করেছে।

এছাড়াও সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে উপস্থাপনার মধ্যে থেকে প্রথমবারের মত মার্কিং এর মাধ্যমে র‍্যাংকিং করে আয়োজন করা হয় পুরস্কার। উপস্থাপনা সমূহ মার্কিং করে উপস্থিত সম্মানিত অতিথিগণ।

রাজধানী ঢাকার ৬টি পয়েন্টের মধ্যে ২টি পয়েন্ট মজার ইশকুলঃ আগারগাঁও ও মজার ইশকুলঃ মানিকনগর, যেখানে মজার ইশকুলের স্থায়ী ইশকুলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাকি ৪টি পয়েন্ট খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ইশকুল, মজার ইশকুলঃ শাহবাগ, মজার ইশকুলঃ কমলাপুর, মজার ইশকুলঃ সদরঘাট, মজার ইশকুলঃ ধানমন্ডি।

প্রতিটি পয়েন্ট থেকে লাল রঙের দ্বিতল বিআরটিসি বাসে করে সকাল ৯:৩০-১০:০০ এর মধ্যে পয়েন্ট থেকে ঢাকা লেডিস ক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। বাস নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ঢাকা লেডিস ক্লাবে পৌছে যায়, কিছুক্ষণ বাসে অপেক্ষার পর সকল শিশু বাস থেকে সারিবদ্ধ নেমে লেডিস ক্লাবে নির্ধারিত টেবিলের নির্ধারিত আসন গ্রহণ করে।

দুপুর ১২টার মধ্যে ৬টি পয়েন্টের স্বেচ্ছাসেবী ও শিশু লেডিস ক্লাবে উপস্থিত হলে, তাদের জন্য ১২৩ সিসিমপুরের পরিবেশনার মাধ্যমে প্রোগ্রামের সূচনা ঘটে এরপর তাদের টেবিলে খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রায় ৪০০ জন শিশু ঠিক দুপুর ১২:১৫ মিনিট থেকে খাবার খাওয়া শুরু করে। খাবার শেষ করে দুপুর ১:৩০ মিনিট থেকে মজার ইশকুলঃ মানিকনগর এর ৫ জন শিক্ষার্থীর ফাগুনেরও মোহনায় গানে নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামের সূচনা ঘটে।

এরপর উপস্থিত সম্মানিত অতিথিগণ সংক্ষেপে শিশুদের উদ্দ্যেশ্যে তাদের অনুভূতি উপস্থাপন করেন। এরপর ডেমরা জোনের সিনিয়র এসি জনাব ইফতেখায়রুল ইসলাম শিশুদের উদ্দ্যেশ্যে একটি গান ও কবিতা আবৃতি করেন। এভাবে একে একে স্থায়ী ইশকুল ও খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ইশকুলের নাচ, গান, কবিতা উপস্থাপনা শেষ হয় দুপুর ২:৩০ মিনিটে।

এবার উৎসব এ প্রথম বার উপস্থিত ১০ জন সম্মানিত অতিথি সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা বিচারক হিসেবে ছিলেন।

এরপর শিশুদের উৎসব এর আমেজ আরো আরো বৃদ্ধি করতে গত বছরের মত এবারো ১২৩ সিসিমপুরের পরিবাশনা পর্ব শুরু হয়। এ সময় বিচারক অতিথিগণ তাদের কাছে প্রদত্ত নম্বর শিটে নম্বর প্রদান করেন। নম্বর প্রদান শেষে মজার ইশকুলের স্বেচ্ছাসেবীগণ নম্বর যোগ করার পর যোগকৃত নম্বরের ভিত্তিতে ১ম থেকে ৭ম পর্যন্ত স্থান অধিকারীদের জন্য ছিলো পুরস্কারের ব্যবস্থা। পুরস্কারগুলো শিশুদের হাতে তুলে দেন পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় সচিব জনাব কবির বিন আনোয়ার।

সকল শিশুকে পুনরায় বাসে করে নিরাপদে নিজ নিজ পয়েন্টে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসব কী এবং কেন করা হয়

ঈদ-উল-আযহা মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এই ঈদে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুসলমানগণ পশু কোরবানি করেন।

এই ঈদ আমাদের সমাজের এক শ্রেণির মানুষ আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উৎযাপন করতে পারে না। তারা হয়তো যারা কোরবানি করেছেন তাদের দেয়া মাংস পায়। কিন্তু ঐ মাংস রান্না করে খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ (মশলা, পাতিল) বেশিরভাগ পরিবারের থাকে না। তাই দেখা যায় তারা মাংস রান্না করে পরিবারের সাবার সাথে না খেয়ে সংগৃহীত মাংস বিক্রি করে দেয়।

মজার ইশকুল (একটি অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন উদ্যোগ), ২০১৪ সাল থেকে বিগত ৫ বছর ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়া ও ভরপেট গরু মাংস খাওয়ানোর জন্যই মূলত আনন্দ উৎসব এর আয়োজন করে আসছে।

২০১৪ সালে প্রথম আনন্দ উৎসবে তিন শতাধিক শিশুকে স্টার কাবাব এন্ড রেস্টুরেন্টে খাওয়ানো হয়, পরবর্তী বছর এক শতাধিক শিশুকে মজার ইশকুলঃ কমলাপুর পয়েন্টে খাওয়ানো হয়।

মূলত ২০১৬ সাল থেকে মজার ইশকুল শিশুদের জন্য উৎসবের আয়োজন বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। ঢাকার লেডিস ক্লাবে ৪০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নিয়ে আয়োজন করা হয় মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসব ২০১৬, সিজন-৩। এবার শিশুদের লাল দ্বিতল বাসে করে নিজ পয়েন্ট থেকে ঢাকা লেডিস ক্লাবে নিয়ে আসা হয় এবং শিশুদের জন্য সাদা ভাতের সাথে যত খুশি তত গরু মাংস, বিশুদ্ধ পানি ও কোমল পানীয় খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়। খাবারের পাশাপাশি তাদের বিনোদনের জন্য ১২৩ সিসিমপুরের প্রধান চরিত্র হালুম, টুকটুকি ও শিকুর, স্থায়ী ও খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ইশকুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা।

এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭-২০১৮ সালে মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসব এর ৪র্থ ও ৫ম সিজন ঢাকা লেডিস ক্লাবে ৪০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নিয়ে আয়োজন করা হয়। খাবারে আনলিমিডেট গরু মাংসের সাথে পোলাও, কোমল পানীয়, মিষ্টি, আইসক্রিম যুক্ত হয়।

২০১৮ সালে ঢাকার পাশাপাশি ৩ টি বিভাগ খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের ১০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু আনন্দ উৎসবের নিজ নিজ বিভাগে অংশগ্রহণ করে। তাদের জন্যও খাবারের তালিকা একই ছিলো, আর বিনোদন পর্বে বিভাগীয় টিমের স্বেচ্ছাসেবী ও শিশুদের উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়েছিলো।

মজার ইশকুল এর ৬ টি উৎসবের মধ্যে আনন্দ উৎসবে শিশুদের কাছে একটি ভিন্ন জায়গা দখল করে আছে। এর কারণ লাল রঙের দ্বিতল বাসে করে উৎসবে অংশগ্রহণ করতে আসা, ভরপেট সাদা ভাত বা পোলাও এর সাথে গরু মাংস খাওয়া ও সবচেয়ে আকর্ষণীয় ১২৩ সিসিমপুরের মূল ৪টি চরিত্র হালুম, শিকু, টুকটুকি ও ইকরির পরিবেশনা, সাথে স্থায়ী ও খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ইশকুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা।

স্বেচ্ছাসেবীদের আন্তরিকতা থেকে শুরু করে সকল আয়োজন মিলিয়ে মজার ইশকুল বিগত ৫ বছর ধরে মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসবের নামের সার্থকতা শিশুদের জন্য একটি আনন্দময় দিনের উপহার দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ করে আসছে।

প্রতি বছর কোরবানি ঈদের পর শিশুরা অপেক্ষায় থাকে লাল বাসে করে, এসিরুমে বসে মাংস খাওয়া ও সিসিমপুর দেখার। শিশুদের এই অপেক্ষার ফল স্বরুপ প্রতি বছর আয়োজিত হয়ে আসছে ও ভবিষ্যতেও বিশেষ কোন কারণ ছাড়া আয়োজিত হবে মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসব।

মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসব এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসব এর মূল লক্ষ্য স্থায়ী ও ভাসমান সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সংগ্রহ করে, শিশু সংখ্যা, পারিপার্শ্বিক বিষয়াবলি বিবেচনা করে তাদের জন্য খোলা আকাশের নিচে পরিচালিত ইশকুল বা স্থায়ী ইশকুল এর কার্যক্রম শুরু করা।

শিশুদের কাছে থেকে তাদের স্থায়ী ঠিকানা/গ্রামের ঠিকানা সংগ্রহের পর তা যাচাই বাছাই করে পরবর্তি ধাপ হিসেবে যে জেলার বা বিভাগের শিশু বেশী আছে তাদের জন্য বিভাগীয় ইশকুলের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পথ শিশু মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে মজার ইশকুলের বৃহৎ পরিকল্পনার একটি অংশ মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসব।

মজার ইশকুলঃ আনন্দ উৎসব এর উদ্দেশ্য শিশুদের আন্তরিকতার সাথে ভরপেট গরু মাংস খাওয়ানো, সাথে ১ ২ ৩ সিসিমপুর ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের জীবনে একটি আনন্দময় দিনের স্মৃতি তৈরী করা।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •